বিজ্ঞানময় কোরানের আয়াত লেখার জন্য কাগজ আবিষ্কার করতে পারেনি আল্লাহ

যে লেভেলের দূরদর্শিতা বা জ্ঞান থাকলে কাউকে কোনো বিষয়ের ওপর ‘থিংক-ট্যাংক’ বা ‘নলেজ-ট্যাংক’ বলা যায়, দুঃখজনকভাবে কুরআনের তথাকথিত মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ও সর্বজ্ঞাত আল্লাহর সেই সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানটুকুও ছিল না। এই তথাকথিত সবজান্তা আল্লাহ যদি ডিজিটাল ডাটা, পিডিএফ (PDF), ক্লাউড স্টোরেজ কিংবা গুগল ডকস ফাইলের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ টেকনোলজি সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা রাখতেন, তবে তিনি অনন্তকালের জন্য প্রেরিত তার মহামূল্যবান ওহী বা বাণীকে পশুর চামড়া, গাছের বাকল, কাঠের টুকরো কিংবা পচা হাড়ের ওপর লিখে রাখার মতো আদিম ও ভঙ্গুর ব্যাকআপ পদ্ধতির ওপর ছেড়ে দিতেন না।


আসুন, তথাকথিত সর্বজ্ঞাত আল্লাহর ‘থিংক-ট্যাংক’ এবং ডাটা ব্যাকআপের নমুনাগুলো সরাসরি তাদের নিজেদের কিতাব থেকেই দেখে নিই:

১. ডাটা সিকিউরিটি ও ব্যাকআপ ফেইলর: একজন সামান্য সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারও জানেন যে, গুরুত্বপূর্ণ ডাটা এমন ব্যাকআপে রাখতে হয় যা কখনো ধ্বংস বা বিকৃত হবে না। অথচ আল্লাহর ওহী রাখা হলো গাছের ছাল আর পশুর চামড়ায়, যা প্রাকৃতিকভাবেই পচনশীল। যার পরিণতিতে সাহাবীরা একে অপরের কুরআনকে ভুল বললেন, খলিফাকে কুরআন বিকৃতির দায়ে খুন হতে হলো এবং অসংখ্য আয়াত হারিয়ে গেল। মহাবিশ্বের স্রষ্টা হয়েও ডাটা সিকিউরিটির এই ন্যূনতম কমনসেন্স আল্লাহর ছিল না কেন?


২. ভবিষ্যতের প্রযুক্তির অনুপস্থিতি: মুসলিম অ্যাপোলজিস্টরা দাবি করেন কুরআন নাকি কেয়ামত পর্যন্ত সব যুগের মানুষের জন্য বিজ্ঞানময় কিতাব। যদি তাই হয়, তবে সর্বজ্ঞাত আল্লাহ কেন জিব্রাইলের মাধ্যমে মুহাম্মদকে একটি চিরস্থায়ী, অপরিবর্তনীয় ডিজিটাল ফরম্যাট (যেমন: ক্লাউড স্টোরেজ, পিডিএফ বা ডকস ফাইল) ধারণার ইঙ্গিত দিলেন না? কেন মুহাম্মদকে হাড় আর গাছের ছাল খুঁজতে হলো এবং সাহাবীদের রক্তের বন্যা বইয়ে দিতে হলো?


মূল কথা: ঈশ্বর যদি সত্যিই অতীত ও ভবিষ্যৎ জানতেন, তবে তিনি ওহী সংরক্ষণের জন্য সপ্তম শতকের আরবের যাযাবরদের মতো হাড়, চামড়া আর পাথরের ফাইলের ওপর নির্ভরশীল হতেন না। বিশ্ববাসীর জন্য পাঠানো কিতাবের সুরক্ষায় আল্লাহর এই চরম প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত দেউলিয়াগ্রস্ততাই প্রমাণ করে—এই আল্লাহ আসলে সর্বজ্ঞাত কেউ নন, বরং সপ্তম শতকের মরুভূমির মানুষের সীমিত চিন্তাভাবনা ও তৎকালীন প্রযুক্তির বাইরে ভাবার ক্ষমতা এই আল্লাহর ছিল না।

১. কাগজের বইয়ের আদিম ধারণা:
“আল্লাহর নিকট হতে প্রেরিত এক রাসূল, যে আবৃত্তি করে পবিত্র অয়াৎসমূহ (সহীফা)।”
— [আল কুরআন ৯৮:২]
অর্থাৎ, আল্লাহর কল্পনার সর্বোচ্চ সীমা ছিল কাগজের পাতা বা স্ক্রোল (সহীফা), এর বাইরে কোনো স্থায়ী ডিজিটাল ডিভাইস এবং ডিজিটাল সংরক্ষণের আইডিয়া তার মাথায় আসেনি।

২. ওহী লেখার আদিম উপাদান:
যখন সূরা আন-নিসার ৯৫ নম্বর আয়াত নাজিল হলো, তখন মুহাম্মদ বললেন, “যায়েদকে ডাকো, সে যেন ফলক (কাঠের টুকরো), দোয়াত ও পশুর হাড় নিয়ে আসে…” (সহীহ বুখারী)।

ইসলামী ইতিহাস ও উলুমুল কুরআন গ্রন্থগুলো থেকেই প্রমাণিত যে, কুরআনের আয়াতগুলো মূলত লিপিবদ্ধ ছিল খেজুরের ডাল, পশুর চামড়া, উটের হাড়, কাঠফলক ও পাথরের টুকরোয়। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানির ‘মুওয়াফাকাতুল খাবারি’ (খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৪৪) এবং ড. আবদুল্লাহ শাহাতার ‘উলুমুল কুরআন’ (পৃষ্ঠা: ২১-২২) থেকে জানা যায়—ওহী লেখক সাহাবীরা খেজুর গাছের ছাল, পাথর, চামড়া ও পশুর হাড়ের ওপর কুরআন লিপিবদ্ধ করে মুহাম্মদের ঘরে জমা করে রাখতেন।

আদিম ডাটা স্টোরেজের খেসারত: সাহাবীদের চরম বিরোধ ও হত্যাকাণ্ড

একটি কেন্দ্রীয় ও চিরস্থায়ী প্রযুক্তিতে (যেমন পিডিএফ বা ক্লাউড ড্রাইভ) ডাটা সেভ না করে হাড় আর চামড়ায় ছিটকে রাখার কারণে মুহাম্মদের মৃত্যুর পরপরই মুসলমানদের মধ্যে কুরআন নিয়ে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। আরবরা ভিন্ন ভিন্ন উপভাষায় ও নিজেদের মতো করে হাড়-চামড়া দেখে কুরআন সংকলন করতে গিয়ে পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায়।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের বিদ্রোহ ও বিকৃতির অভিযোগ: প্রধান ওহী লেখক এবং মুহাম্মদের অন্যতম প্রিয় সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ খলিফা উসমানের তৈরি করা কুরআনকে মেনে নেননি। ইবনে আবি দাউদের ‘কিতাব আল-মাসাহিফ’ থেকে জানা যায়, ইবনে মাসউদের ব্যক্তিগত মুসহাফে (কুরআনে) সূরা ফাতিহা এবং শেষ দুটি সূরা (ফালাক ও নাস) ছিলই না। তিনি দাবি করতেন এগুলো কুরআনের অংশ নয়, বরং দোয়ার অংশ। উল্টোদিকে উবাই ইবনে কাবের মুসহাফে আবার ‘আল-খাল’ এবং ‘আল-হাফদ’ নামে অতিরিক্ত দুটি সূরা ছিল। সাহাবীদের মধ্যে কার কুরআন সঠিক, তা নিয়ে রক্তক্ষয়ী বিবাদ শুরু হয়।

উসমানের কুরআন পোড়ানো এবং হত্যাকাণ্ড: এই চরম বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে তৃতীয় খলিফা উসমান ইবনে আফফান নিজের তৈরি একটি সংস্করণ বাদে বাকি সমস্ত সাহাবীদের ব্যক্তিগত ও আদিম উপাদানে লেখা কুরআনের কপিগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করার নির্দেশ দেন। খোদ সাহাবীদের একটি বড় অংশ উসমানের এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেনি। অনেক ঐতিহাসিকদের মতে, উসমানের বিরুদ্ধে মদিনায় যে বিদ্রোহ তৈরি হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাকে যেভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তার অন্যতম একটি বড় কারণ ছিল এই “কুরআন পোড়ানো এবং তার নিজস্ব সংস্করণ চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে কুরআন বিকৃতির অভিযোগ।”

হারিয়ে যাওয়া সূরার হাহাকার: সহীহ মুসলিমের হাদিস (হাদিস নম্বর: ২২৮৬) অনুযায়ী, সাহাবী আবু মুসা আল-াশআরী আক্ষেপ করে বলেছিলেন যে, তারা পূর্বে সূরা বারাআতের (তওবা) সমপরিমাণ বড় একটি সূরা তিলাওয়াত করতেন, যা তারা ভুলে গেছেন এবং যার মাত্র একটি আয়াত তাদের মনে আছে। আয়েশার বর্ণনা অনুযায়ী, ছাগলে ওহী লেখা চামড়া খেয়ে ফেলার কারণেও কুরআনের রজম (পাথর ছুড়ে মারা) এবং স্তন্যপানের আয়াত চিরতরে হারিয়ে গেছে।

এবার যৌক্তিক প্রশ্ন:


​১. ডাটা সিকিউরিটি ও ব্যাকআপ ফেইলর: একজন সামান্য সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারও জানেন যে, গুরুত্বপূর্ণ ডাটা এমন ব্যাকআপে রাখতে হয় যা কখনো ধ্বংস বা বিকৃত হবে না। অথচ আল্লাহর ওহী রাখা হলো গাছের ছাল আর পশুর চামড়ায়, যা প্রাকৃতিকভাবেই পচনশীল। যার পরিণতিতে সাহাবীরা একে অপরের কুরআনকে ভুল বললেন, খলিফাকে কুরআন বিকৃতির দায়ে খুন হতে হলো এবং অসংখ্য আয়াত হারিয়ে গেল। মহাবিশ্বের স্রষ্টা হয়েও ডাটা সিকিউরিটির এই ন্যূনতম কমনসেন্স আল্লাহর ছিল না কেন?


​২. ভবিষ্যতের প্রযুক্তির অনুপস্থিতি: মুসলিম অ্যাপোলজিস্টরা দাবি করেন কুরআন নাকি কেয়ামত পর্যন্ত সব যুগের মানুষের জন্য বিজ্ঞানময় কিতাব। যদি তাই হয়, তবে সর্বজ্ঞাত আল্লাহ কেন জিব্রাইলের মাধ্যমে মুহাম্মদকে একটি চিরস্থায়ী, অপরিবর্তনীয় ডিজিটাল ফরম্যাট (যেমন: ক্লাউড স্টোরেজ, পিডিএফ বা ডকস ফাইল) ধারণার ইঙ্গিত দিলেন না? কেন মুহাম্মদকে হাড় আর গাছের ছাল খুঁজতে হলো এবং সাহাবীদের রক্তের বন্যা বইয়ে দিতে হলো?


​মূল কথা: ঈশ্বর যদি সত্যিই অতীত ও ভবিষ্যৎ জানতেন, তবে তিনি ওহী সংরক্ষণের জন্য সপ্তম শতকের আরবের যাযাবরদের মতো হাড়, চামড়া আর পাথরের ফাইলের ওপর নির্ভরশীল হতেন না। বিশ্ববাসীর জন্য পাঠানো কিতাবের সুরক্ষায় আল্লাহর এই চরম প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত দেউলিয়াগ্রস্ততাই প্রমাণ করে—এই আল্লাহ আসলে সর্বজ্ঞাত কেউ নন, বরং সপ্তম শতকের মরুভূমির মানুষের সীমিত চিন্তাভাবনা ও তৎকালীন প্রযুক্তির বাইরে ভাবার ক্ষমতা এই আল্লাহর ছিল না।

Related Posts

নবী মুহাম্মদের গাছ বিদ্বেষ: অলৌকিক কাহিনীর অন্তরালে কুসংস্কার ও পরিবেশবিরোধী চেতনা

ইসলামী ধর্মগ্রন্থে প্রাণী সংক্রান্ত নানা বিতর্কিত নির্দেশনার কথা অনেকেরই জানা, তবে উদ্ভিদের মতো একটি সম্পূর্ণ অচেতন ও নিরপেক্ষ প্রাকৃতিক উপাদানের প্রতি ধর্মীয় বিদ্বেষ আরোপের ঘটনাও কিন্তু কম নয়। পরিবেশ সুরক্ষা ও বৃক্ষরোপণের কথা বলে ইসলামকে অনেক সময় পরিবেশবান্ধব হিসেবে প্রচার করা হলেও, হাদিস ও কোরআনের গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায় সেখানে নির্দিষ্ট কিছু গাছকে ‘শত্রুর গাছ’ বা ‘অভিশপ্ত বৃক্ষ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কেবল অলৌকিক…

Read more

ইসলামে নারীরা কি আসলেই পুরুষের চেয়ে বেশি সম্পত্তি পায়? ৫টি ভুল ধারণা ও খণ্ডন

ইসলামের উত্তরাধিকার আইন  নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে একটি কথা প্রায়ই শোনানো হয় যে, “ইসলামে নারীরা কেবল অর্ধেক পায় না, বরং বহু ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়েও বেশি সম্পত্তি পায়।” কিন্তু আইনের তুলনামূলক মূলনীতি এবং সম-পারিপার্শ্বিক অবস্থার বিচারে এই দাবিটির বাস্তবতা কতটুকু, তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। কোনো আইনের সমতা বা বৈষম্য পরিমাপ করতে হয় একই স্তরের দুটি আফটার-ইফেক্ট বা সম-পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে। অসদৃশ অবস্থার সাথে অসম তুলনা টেনে নারীর অধিকারকে বেশি…

Read more

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Latest

স্রষ্টা কি রাগেন বা খুশি হন? মানুষের বৈশিষ্ট্য ও সীমাবদ্ধতা সৃষ্টিকর্তার উপর চাপিয়ে দেয়া কতটা যৌক্তিক?

স্রষ্টা কি রাগেন বা খুশি হন? মানুষের বৈশিষ্ট্য ও সীমাবদ্ধতা সৃষ্টিকর্তার উপর চাপিয়ে দেয়া কতটা যৌক্তিক?

মহাবিশ্বের উৎপত্তি: পরম কারণ নাকি প্রাকৃতিক নিয়ম?

মহাবিশ্বের উৎপত্তি: পরম কারণ নাকি প্রাকৃতিক নিয়ম?

প্রাণের উদ্ভব: ঈশ্বর নাকি প্রাকৃতিক রাসায়নিক বিক্রিয়া?

​আল্লাহ কেন শিশুদের কষ্ট দেন: ধর্মীয় গোঁজামিলের যৌক্তিক খণ্ডন

​আল্লাহ কেন শিশুদের কষ্ট দেন: ধর্মীয় গোঁজামিলের যৌক্তিক খণ্ডন

নবী মুহাম্মদের গাছ বিদ্বেষ: অলৌকিক কাহিনীর অন্তরালে কুসংস্কার ও পরিবেশবিরোধী চেতনা

নবী মুহাম্মদের গাছ বিদ্বেষ: অলৌকিক কাহিনীর অন্তরালে কুসংস্কার ও পরিবেশবিরোধী চেতনা

ইসলামে নারীরা কি আসলেই পুরুষের চেয়ে বেশি সম্পত্তি পায়? ৫টি ভুল ধারণা ও খণ্ডন

ইসলামে নারীরা কি আসলেই পুরুষের চেয়ে বেশি সম্পত্তি পায়? ৫টি ভুল ধারণা ও খণ্ডন