কুরআন অনুযায়ী কি পৃথিবী গোলাকার? সকল গোঁজামিলের জবাব
ইসলামি ধর্মতত্ত্বে দাবি করা হয় যে, কুরআন ও হাদিস একটি মহাজাগতিক ও সর্বজ্ঞানী সত্তার বাণী, যাতে কোনো বৈজ্ঞানিক ভুল থাকা অসম্ভব। কিন্তু কুরআন ও হাদিসের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা মহাজাগতিক বর্ণনাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই ধর্মগ্রন্থে আধুনিক বিজ্ঞানের কোনো আলো তো নেই-ই, বরং এটি তার সমসাময়িক প্রাচীন গ্রিক, ব্যবিলনীয় ও হিব্রু মিথলজির “সমতল পৃথিবী এবং গম্বুজাকৃতির আকাশ” ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। পর্ব ১: সমতল পৃথিবীর সপক্ষে…
Read moreইসলামের কোন বিধান বা নবীর কর্মকাণ্ডকে কি যুগ-প্রেক্ষাপটের দোহাই দিয়ে জাস্টিফাই করা যায়?
ইসলামী আকীদা ও মূলধারার বিশ্বাস অনুযায়ী, কুরআন ও সহীহ হাদিসে বর্ণিত প্রতিটি আইনি বিধান, নবী মুহাম্মদের সুন্নাহ কোনো বিশেষ ভৌগোলিক সীমানা বা সময়ের ফ্রেমে বন্দি নয়। ইসলাম নিজেকে উপস্থাপন করে কেয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য একমাত্র শাশ্বত, চূড়ান্ত, পরম সত্য ও অপরিবর্তনীয় ঐশ্বরিক জীবনবিধান হিসেবে। কিন্তু আধুনিক যুগে এসে যখনই ইসলামের কোনো অমানবিক আইন, যুদ্ধবন্দিনী ভোগ, চরমপন্থী সামাজিক বিধি, নবী ও সাহাবীদের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কিংবা অপবৈজ্ঞানিক নির্দেশ নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ…
Read moreসূরা তাওবার মুশরিক হত্যার আয়াত কি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছিলো?
সাধারণ মুসলিম কিংবা আধুনিক ইসলামিক অ্যাপোলজিস্টদের কাছে যখনই সূরা তাওবার ৫ নম্বর আয়াত—যা ইতিহাসে “আয়াতুস সাইফ” বা “তলোয়ারের আয়াত” নামে পরিচিত—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তখনই তারা একটি তৈরি করা ও মুখস্থ বুলি আউড়ান। তারা সাফাই গেয়ে দাবি করেন, “এটি তো যুদ্ধের ময়দানে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নাযিল হয়েছিল! যুদ্ধের ময়দানে শত্রু তো আর ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে না, সেখানে তো শত্রুকে হত্যা করার নির্দেশই দেওয়া হবে!” প্রথম দর্শনে এই যুক্তি…
Read moreকুরআনে মৌমাছির অলৌকিকতা: বৈজ্ঞানিক সত্য নাকি সংখ্যাতাত্ত্বিক গোঁজামিল?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন ইসলামিক অ্যাপোলজিস্টদের (ধর্মীয় ব্যাখ্যাকারী) আলোচনায় প্রায়ই একটি কথা শোনা যায়— পবিত্র কুরআনে নাকি হাজার বছর আগেই মৌমাছির এমন সব বৈজ্ঞানিক তথ্য দেওয়া হয়েছে, যা আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কারের সাথে হুবহু মিলে যায়।মৌমাছির ক্রোমোজোম সংখ্যা, সূরার নাম্বার, কিংবা পুরুষ ও স্ত্রী মৌমাছির ভূমিকা নিয়ে যেসব অলৌকিকতার দাবি তোলা হয়, আপাতদৃষ্টিতে সেগুলো চমকপ্রদ মনে হলেও বিজ্ঞান এবং ইতিহাসের কষ্টিপাথরে যাচাই করলে এগুলো গোঁজামিল ছাড়া আর কিছুই নয়।…
Read moreকুরআনে কি সত্যিই ফিঙ্গারপ্রিন্টের কথা আছে? কুরআন নাজিলের আগে কি মানুষ ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্পর্কে জানতো না?
আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় জাকির নায়েকের মতো কিছু দাঈ, যারা ইসলামিক স্কলারও নন, তাদের মুখে একটি দাবি খুব শুনতে পাওয়া যায়। তারা বুক ফুলিয়ে দাবি করেন—আধুনিক বিজ্ঞান মাত্র উনিশ শতকে এসে ফিঙ্গার প্রিন্ট আবিষ্কার করেছে। অথচ কুরআন নাকি আজ থেকে ১৪০০ বছর আগেই সূরা কিয়ামাহর ৪ নম্বর আয়াতে এই ফিঙ্গারপ্রিন্টের অলৌকিক বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব দিয়ে রেখেছে! কিন্তু আমরা যখনই ইতিহাস, ভাষাবিজ্ঞান এবং প্রাচীন বা ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তাফসির গ্রন্থগুলোর দিকে…
Read moreকুরআনে ফেরাউনের মমি সম্পর্কে প্রচলিত দাবি বনাম ঐতিহাসিক বাস্তবতা
ওয়াজ-মাহফিল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুল আলোচিত একটি জনপ্রিয় মিরাকল হলো কুরআনে ফেরাউনের মমি অলৌকিকভাবে সুরক্ষিত থাকার দাবি। বলা হয়ে থাকে, সাগরে ডুবে মারা যাওয়া এই ফারাওয়ের লাশ নাকি বিজ্ঞানের যুগে ঐতিহাসিক অলৌকিকতার এক জ্বলন্ত প্রমাণ। কিন্তু পরম ধার্মিকতার আবডালে লুকিয়ে থাকা এই অলৌকিকতার দাবিটি কি আদৌ কোনো ঐতিহাসিক বা বৈজ্ঞানিক সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, নাকি এটি স্রেফ অন্ধ বিশ্বাস আর ভুয়া তথ্যের বিভ্রান্তি? আধুনিক মিসরবিদ্যা (Egyptology), পিয়ার-রিভিউড বিজ্ঞান এবং প্রাচীন হায়ারোগ্লিফিক…
Read moreআইয়্যামে জাহেলিয়ার নামে মিথ্যাচারের জবাব
ইসলামকে গ্লোরিফাই করার জন্য মুসলিমরা যেই মিথ্যাচারগুলো করে থাকে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আইয়্যামে জাহেলিয়া। তারা আইয়্যামে জাহেলিয়া নিয়ে এমনভাবে অপপ্রচার চালায় যেন মনে হয় ইসলাম আসার পূর্বে বুঝি আরবে, এমনকি পৃথিবীতে জ্ঞান বিজ্ঞান বা সভ্যতা বলতে বুঝি ছিলো না। এটা নিয়ে সাধারণত যে ৪ ধরনের অপপ্রচার হয় তা হলো : ১. ইসলামের পূর্বে সমগ্র বিশ্বে আইয়ামে জাহেলিয়া ছিলো ২. ইসলামের পূর্বে সমগ্র আরবে আইয়ামে জাহেলিয়া ছিলো ৩. ইসলামের…
Read moreকুযুক্তি, মিথ্যাচার এবং অজ্ঞতায় ভরপুর জাকির নায়েকের লেকচার
ধর্মপ্রচারের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আবেগ আর যুক্তিহীন আনুগত্যকে পুঁজি করে কীভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো যায়, জাকির নায়েকের লেকচারগুলো তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। দ্রুতগতির বাচনভঙ্গি, অসংখ্য তথ্যের উদ্ধৃতি আর বিজ্ঞানের চটকদার প্রলেপ দিয়ে তিনি নিজের বক্তব্যগুলোকে আপাতদৃষ্টিতে অকাট্য করে তুলেন। কিন্তু এই আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনার আড়ালে বিচক্ষণভাবে পর্যবেক্ষণ করলে চোখে পড়ে চরম বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা, তথ্যের বিকৃতি, বিজ্ঞানের অপব্যাখ্যা এবং অযৌক্তিক উপমার জাল। বিজ্ঞান ও ইতিহাসের প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার…
Read more










