স্রষ্টা কি রাগেন বা খুশি হন? মানুষের বৈশিষ্ট্য ও সীমাবদ্ধতা সৃষ্টিকর্তার উপর চাপিয়ে দেয়া কতটা যৌক্তিক?
মানুষ সাধারণত তার নিজের রূপ, অনুভূতি, কল্পনা এবং সীমাবদ্ধতা দিয়েই সবকিছুকে ব্যাখ্যা করতে চায়। এই বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় অ্যানথ্রোপোমরফিজম (Anthropomorphism) বা মানব রূপারোপবাদ। সহজ ভাষায়, মানবীয় আবেগ, আকৃতি বা চরিত্রকে কোনো অ-মানবীয় বস্তু বা পরম সত্তার ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াই হলো অ্যানথ্রোপোমরফিজম। কার্টুনে পশুপাখির কথা বলা যেমন অ্যানথ্রোপোমরফিজম, ঠিক তেমনি ধর্মীয় সৃষ্টিতত্ত্ব ও ঈশ্বর ভাবনায় মানবীয় গুণাবলী আরোপ করা এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ।…
Read moreআল্লাহ কেন শিশুদের কষ্ট দেন: ধর্মীয় গোঁজামিলের যৌক্তিক খণ্ডন
যখনই কেউ প্রশ্ন করে, জন্মগতভাবে একটা শিশুকে প্রতিবন্ধী বানিয়ে বা ভয়ানক রোগ দিয়ে আল্লাহ কেন শিশুদের কষ্ট দেন? অবুঝ শিশুদের কষ্ট দিয়ে তিনি কিসের পরীক্ষা নেন? এগুলো কি আসলে দয়ার নমুনা নাকি নির্দয়তার নমুনা? আল্লাহ কি আসলেই পরম দয়ালু? নিজের বিবেককে একবার প্রশ্ন করুন তো! ধরুন, আপনি নিজে যদি আল্লাহ হতেন, তাহলে কি কখনো পরীক্ষার অজুহাতে এরকম অমানবিক কাজ করতে পারতেন?
Read moreশয়তানের বাদ্য: ওহীর আওয়াজ ও বাঁশি বিতর্কে নবীর স্ববিরোধিতা
ইসলামি শরীয়তে বাদ্যযন্ত্র এবং সুরের স্থান অত্যন্ত বিতর্কিত। অধিকাংশ সনাতনপন্থী স্কলারদের মতে, ইসলামে বাদ্যযন্ত্র এবং গান-বাজনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা হারাম। এর সপক্ষে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর অনেকগুলো বাণী বা হাদিস পেশ করা হয়, যেখানে বিশেষ করে বাঁশিকে “শয়তানের আওয়াজ” বা “শয়তানের বাদ্যযন্ত্র” হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চরম বিস্ময়কর বিষয় হলো, যখন স্বয়ং নবীর কাছে আল্লাহর তরফ থেকে সবচেয়ে পবিত্র জিনিস অর্থাৎ ‘ওহী’ বা ঐশ্বরিক বাণী নাজিল হতো, তখন তার…
Read moreনবী মুহাম্মাদ (সা.) এর স্ত্রীগণ কি আসলেই অসহায় ছিলেন?
১. নবী মুহাম্মদ (সা.) এর যেসব স্ত্রীগণ অসহায় ছিলেন না : ১. আয়েশা বিনতে আবী বকর (৬)তিনি ছিলেন মদিনা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ও নবীর বন্ধু আবু বকর (রা.)-এর কনিষ্ঠ ও কুমারী কন্যা। তিনি কোনো প্রকার দারিদ্র্য, নির্যাতন বা সামাজিক অসহায়ত্বের মধ্যে ছিলেন না; বরং সচ্ছল ও পরম আদরে লালিত-পালিত ছিলেন। বিয়ের সময় আয়েশার বয়স ছিলো মাত্র ৬। ২. হফসা বিনতে উমর (২১): তিনি প্রভাবশালী সাহাবি উমর ইবনে আল-খাত্তাব…
Read moreনবী মুহাম্মদ কি তবে নাস্তিক ছিলেন?
ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেওয়া ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের তালিকায় নবী মুহাম্মদ সবচেয়ে বেশি চর্চিত ও প্রভাব বিস্তারকারী নাম। অনুসারীদের দৃষ্টিতে তিনি ‘সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব’ ও ‘ঐশ্বরিক বার্তাবাহক’। কিন্তু অলৌকিক বিশ্বাসের খোলস ছাড়িয়ে যদি নিরপেক্ষ ইতিহাস, আচরণগত বিজ্ঞান ও প্রামাণ্য নথিপত্রের মাধ্যমে নবী মুহাম্মদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করা যায়, তবে সামনে আসে বেশ কিছু প্রশ্ন জাগানো অধ্যায়। নিজের ব্যক্তিগত ইচ্ছা, পারিবারিক সিদ্ধান্ত কিংবা রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে ওহীর প্রকাশ ঘটা এবং বেশকিছু…
Read moreযেকোনো ধর্মগ্রন্থ থেকে বৈজ্ঞানিক মিরাকল বের করার ৫টি কৌশল
ডিজিটাল বিপ্লব ও সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে তরুণ প্রজন্মের কাছে ধর্মগ্রন্থকে অলৌকিক প্রমাণ করতে এক অদ্ভুত কৌশলের প্রচলন ঘটেছে, আর তা হলো—হাজার বছর আগের প্রাচীন কোনো ধর্মগ্রন্থে নাকি আধুনিক বিজ্ঞানের জটিল জটিল আবিষ্কার কিংবা নিখুঁত গাণিতিক মিরাকল আগে থেকেই লুকিয়ে রাখা হয়েছিল! অনেকেই মনে করেন, কুরআনে বৈজ্ঞানিক মিরাকল খোঁজার এই ট্রেন্ডটি বুঝি সাম্প্রতিককালের ইসলামিক অ্যাপোলজিস্টরা প্রথম আবিষ্কার করেছেন। কিন্তু ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এই ধারণাটি একেবারেই ভুল। মুসলিম…
Read moreকুরআনে কি সমুদ্রবিজ্ঞান আছে? সূরা নূরের তরঙ্গ দাবির বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ
বর্তমান যুগে ধর্মীয় গ্রন্থকে অলৌকিক প্রমাণ করতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত একটি কৌশল হলো ধর্মগ্রন্থ থেকে বিজ্ঞান খুঁজে বের করা। বিশেষ করে অনেকেই দাবি করেন যে, কুরআনে সমুদ্রবিজ্ঞান সম্পর্কিত তথ্য রয়েছে এবং সূরা আন-নূরের ৪০ নম্বর আয়াতে আধুনিক বিজ্ঞানের ‘ইন্টারনাল ওয়েভ’ বা সমুদ্রের তলদেশের অভ্যন্তরীণ তরঙ্গের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা নাকি ১৪০০ বছর আগে মানুষের পক্ষে জানা অসম্ভব ছিল। আপাতদৃষ্টিতে এই দাবিটি চমকপ্রদ মনে হলেও ভাষাতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক, বৈজ্ঞানিক ও প্রাচীন তাফসীরের…
Read moreধরা খেলেই বলে: “বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল, কিন্তু ইসলাম অপরিবর্তনশীল?” জানুন অবাক করা সত্য!
আমাদের সমাজে ধর্মীয় বিতর্কের সময় প্রায়ই একটি বিশেষ বৈপরীত্য দেখা যায়। যখন কোনো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সাথে ধর্মগ্রন্থের কোনো আয়াতের দূরবর্তী রূপক মিলও খুঁজে পাওয়া যায়, তখন উৎসাহের সাথে দাবি করা হয়, “দেখো, ১৪০০ বছর আগেই কোরআনে এই বৈজ্ঞানিক সত্যের কথা বলা ছিল!” কিন্তু ঠিক যখনই কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণের মুখোমুখি দাঁড়াতে হয় যা ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক, তখনই রাতারাতি ১৮০ ডিগ্রি অবস্থান বদলে বলা হয়, “বিজ্ঞান তো আজ এক…
Read moreনিষ্পাপ প্রাণীদের প্রতিদানহীন শাস্তি, দয়া নাকি ন্যায়বিচার? ধার্মিকদের সকল খোঁড়া যুক্তি ও তার খণ্ডন
পৃথিবীতে প্রায়শই আমরা দেখি ভয়াবহ খরা, দাবানল, বন্যা, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাজার হাজার বন্যপ্রাণী অবর্ণনীয় কষ্ট পেয়ে মারা যাচ্ছে। কোনো মানুষের হাত ছাড়াই বনের পাখিরা খাবারের অভাবে ছটফট করতে করতে মারা যায়, নিরীহ কুকুর বা হরিণ ছানারা জন্মগত বা সংক্রামক রোগে ভুগে তিলে তিলে শেষ হয়ে যায়। যখনই কোনো আস্তিক বা ধর্মীয় প্রবক্তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, “সৃষ্টিকর্তা যদি পরম দয়ালু এবং পরম করুণাময় হন, তবে তিনি নিষ্পাপ শিশুদের…
Read more










