স্রষ্টা কি রাগেন বা খুশি হন? মানুষের বৈশিষ্ট্য ও সীমাবদ্ধতা সৃষ্টিকর্তার উপর চাপিয়ে দেয়া কতটা যৌক্তিক?
মানুষ সাধারণত তার নিজের রূপ, অনুভূতি, কল্পনা এবং সীমাবদ্ধতা দিয়েই সবকিছুকে ব্যাখ্যা করতে চায়। এই বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় অ্যানথ্রোপোমরফিজম (Anthropomorphism) বা মানব রূপারোপবাদ। সহজ ভাষায়, মানবীয় আবেগ, আকৃতি বা চরিত্রকে কোনো অ-মানবীয় বস্তু বা পরম সত্তার ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াই হলো অ্যানথ্রোপোমরফিজম। কার্টুনে পশুপাখির কথা বলা যেমন অ্যানথ্রোপোমরফিজম, ঠিক তেমনি ধর্মীয় সৃষ্টিতত্ত্ব ও ঈশ্বর ভাবনায় মানবীয় গুণাবলী আরোপ করা এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ।…
Read moreমৃত্যুর পর সৃষ্টিকর্তা সত্য হলে ধার্মিকরা বেঁচে যাবে আর নাস্তিকরা বিপদে পড়বে?
অনেক সময় ধর্মপ্রচারক বা সাধারণ ধার্মিকরা ধর্মীয় বিতর্কে কোণঠাসা হয়ে সর্বশেষ অস্ত্র হিসেবে মুক্তচিন্তক ও নাস্তিকদের প্রতি একটি অতিপরিচিত প্রশ্ন ছুড়ে দেন: “ভাই, মৃত্যুর পর যদি দেখা যায় জান্নাত-জাহান্নাম বা সৃষ্টিকর্তা আসলেই নেই, তাহলে তো আপনাদের কোনো লাভ হলো না, আমাদেরও কোনো ক্ষতি হলো না। কিন্তু মৃত্যুর পর সৃষ্টিকর্তা সত্য হলে এবং পরকাল বলতে যদি সত্যি কিছু থেকে থাকে, তখন আপনাদের কী হবে? আমরা তো অন্তত বেঁচে যাব!” দর্শনের ভাষায় এই…
Read moreএপিকিউরাসের বিখ্যাত প্যারাডক্স, যা ধর্মের ভিত নাড়িয়ে দেয়
হাজার বছর ধরে দর্শন আর ধর্মের আকাশে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বড় ঝড় তুলে আসছে, তা হলো—একটি নিষ্পাপ শিশু যখন ক্যানসারের মতো মরণব্যাধিতে তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করে, তখন ঈশ্বর কেন নীরব থাকেন? আজ থেকে প্রায় ২৫০০ বছর পূর্বে গ্রিক দার্শনিক এপিকিউরাস মানুষের এই চিরন্তন হাহাকারকে এমন এক যৌক্তিক ফাঁদে রূপ দিয়েছিলেন, যা আজ পর্যন্ত পৃথিবীর সমস্ত ধর্মতত্ত্বের ভিত নাড়িয়ে দেয়।আজ আমরা এপিকিউরাসের বিখ্যাত প্যারাডক্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো গোজামিলের জবাবসহ। এপিকুরাস…
Read moreএকটি সামান্য ঘড়ির সৃষ্টিকর্তা থাকলে মানুষ বা প্রকৃতির সৃষ্টিকর্তা থাকবে না কেন: ওয়াচমেকার ফ্যালাসি খণ্ডন
ধর্মীয় আলোচনা বা বিতর্কে ধার্মিকদের সবচেয়ে পছন্দের দাবিগুলোর একটি হলো ঘড়ি বা মোবাইলের উদাহরণ, যা যুক্তিশাস্ত্রে ওয়াচমেকার ফ্যালাসি খণ্ডন আলোচনার একটি অন্যতম বিষয়। তাদের যুক্তিটা এমন—“মরুভূমিতে একটি ঘড়ি বা মোবাইল কুড়িয়ে পেলে আপনি কখনোই ভাববেন না যে এটি বালু আর বাতাসের ঘর্ষণে নিজে নিজে তৈরি হয়েছে। আপনি নিশ্চিত হবেন যে এর একজন সৃষ্টিকর্তা বা কারিগর আছে। তাহলে মানুষের মতো জটিল প্রাণী কিংবা এই বিশ্বজগৎ কীভাবে কোনো সৃষ্টিকর্তা ছাড়া নিজে নিজে তৈরি…
Read moreপরকাল না থাকলে মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য কি?
মুমিন ভাইটি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, স্রষ্টা না থাকলে, পরকালে বিচার আচার, পুরষ্কার বা শাস্তি না থাকলে, বেহেশত দোজখ না থাকলে আমাদের অস্তিত্বের কোন উদ্দেশ্যই থাকে না। এগুলো না থাকলে আমাদের অস্তিত্ব অর্থহীন হয়ে যায়। কোন আলটিমেট উদ্দেশ্য না থাকলে বেঁচে থাকার কোন মানে হয় না। তাহলে নাস্তিকদের এই অর্থহীন জীবনের মানে কী? তারা মরে যাচ্ছে না কেন? প্রশ্নটির উত্তর দেয়ার আগে আমার জানা দরকার, যেই স্রষ্টার কথা আপনি বলছেন,…
Read moreবহুল প্রচলিত কুযুক্তি -পর্ব ২
১৬. ভুল উপমার কুযুক্তি False Analogy Fallacy : এই ফ্যালাসিটি তখনই হয় যখন কেউ দুটি বস্তু বা বিষয়ের মধ্যে তুলনা করে তাদের মধ্যকার একটি সাদৃশ্যের ওপর নির্ভর করে আরেকটি সাদৃশ্য অনুমান করে। দুটি বস্তু বা বিষয়ের মধ্যে একটি ক্ষেত্রে মিল আছে মানে এটা নয় যে, তাদের মধ্যে অপর আরেকটি ক্ষেত্রে অবশ্যই মিল থাকবে। একটি মোবাইল ফোন আর একটি জীবদেহ উভয়ই অত্যন্ত জটিল মানে এটা নয় যে, মোবাইল ফোনটি কোনো…
Read moreধর্মীয় বিতর্কে ধর্মান্ধদের দেয়া ১০টি বহুল প্রচলিত কুযুক্তি ও খণ্ডন
লজিক্যাল ফ্যালাসি বা কুযুক্তি হলো এমন কিছু ত্রুটিপূর্ণ যুক্তি যা আপাতদৃষ্টিতে শুনতে খুব চমৎকার বা সঠিক মনে হলেও, গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে তার ভেতরের বড় গলদটা ধরা পড়ে। যেকোনো সুস্থ ও বুদ্ধিভিত্তিক আলোচনায় এই ফ্যালাসিগুলো চেনা খুবই জরুরি। বিশেষ করে ধর্মান্ধ বা অন্ধবিশ্বাসীরা যখন নিজেদের মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তখন তারা নিজেদের অবচেতন মনেই কিছু চেনা কুযুক্তির ফাঁদ পেতে থাকেন। আজকের ব্লগে আমরা এমন ১০টি লজিক্যাল ফ্যালাসি নিয়ে আলোচনা করব,…
Read more” এই প্রকৃতিকে কে সৃষ্টি করেছে? “
” এই প্রকৃতিকে কে সৃষ্টি করেছে? “ – এই প্রশ্নটি আমাদের লাইনের কমবেশি সবাই শুনেছে। ধার্মিকরা এই প্রশ্ন কমনলি করতে চায়। এই প্রশ্ন যে ইনভ্যালিড, তা যে তারা জানে না এমন নয়, তারা এটি ইচ্ছা করেই করে স্বল্প বোঝা লোকদের বিভ্রান্ত করার জন্য। ★ আসুন আগে দেখি এই প্রশ্নের যৌক্তিকতা। এই ধরনের প্রশ্নকে বলা হয় Loaded Question. আগে একটা বিষয়কে স্বীকার করে নিয়ে এই প্রশ্নটা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ :…
Read moreমানুষের মাঝে ধর্ম ও ইশ্বরের ধারণা ধারণা কীভাবে আসলো: ইতিহাস ও বিবর্তন
মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩৮০ কোটি বছর। অথচ এই বিশাল ক্যানভাসে মানুষের তৈরি ‘একক ঈশ্বর’ ধারণার বয়স ৫০০০ বছরও পার করেনি। সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে মানুষ হাজার হাজার ঈশ্বর তৈরি করেছে, পূজা করেছে, আবার সময়ের পরিক্রমায় তাদের ভুলে গিয়ে মিউজিয়ামের শোপিস বানিয়ে ফেলেছে। ধর্মীয় বয়ানে দাবি করা হয় ঈশ্বর মানুষকে তাঁর নিজের রূপে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু ইতিহাস, নৃবিজ্ঞান ও বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান পরীক্ষা করলে দেখা যায় ঠিক এর উল্টো সত্যটি—মানুষই মূলত নিজের…
Read more











