মহাবিশ্বের উৎপত্তি: পরম কারণ নাকি প্রাকৃতিক নিয়ম?
যখনই প্রাণের উদ্ভব কীভাবে কোনো অলৌকিক ঈশ্বরের সাহায্য ছাড়াই রাসায়নিক নিয়মে ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করা হয়, তখন ধার্মিকদের তোলা পরবর্তী এবং সর্বশেষ প্রচলিত প্রশ্নটি হয়: “তাহলে এই বিশাল মহাবিশ্ব কোথা থেকে এলো? শূন্য থেকে কি কোনো কিছু এমনি এমনি সৃষ্টি হতে পারে? কোনো না কোনো সৃষ্টিকর্তা বা প্রথম কারণ নিশ্চয়ই থাকতে হবে।” ধার্মিকদের এই আর্গুমেন্টটি দর্শনের ভাষায় ‘ক্যাল্যাম কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্ট’ বা কার্যকারণ তত্ত্ব এবং কন্টিনজেন্সি আর্গুমেন্ট নামে পরিচিত। প্রাচীন…
Read moreপ্রাণের উদ্ভব: ঈশ্বর নাকি প্রাকৃতিক রাসায়নিক বিক্রিয়া?
প্রাণের উদ্ভব: ঈশ্বর নাকি প্রাকৃতিক রাসায়নিক বিক্রিয়া? ধর্মীয় বিতর্কগুলোতে ধার্মিকরা যখনই তাদের ধর্মের সত্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হন, তখন একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন: “তাহলে মানুষ বা প্রাণের সৃষ্টি কীভাবে হলো? কোনো সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কি এত জটিল জীবন তৈরি হওয়া সম্ভব?” ধার্মিকদের এই প্রশ্নের নেপথ্যে কাজ করে আধুনিক জীববিজ্ঞান, রসায়ন এবং বিবর্তন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার অভাব। প্রাচীন ধর্মগুলো দাবি করে এসেছে, কোনো এক ঈশ্বর মাটি থেকে প্রাণীর মূর্তি বা অবয়ব বানিয়ে…
Read moreমৃত্যুর পর সৃষ্টিকর্তা সত্য হলে ধার্মিকরা বেঁচে যাবে আর নাস্তিকরা বিপদে পড়বে?
অনেক সময় ধর্মপ্রচারক বা সাধারণ ধার্মিকরা ধর্মীয় বিতর্কে কোণঠাসা হয়ে সর্বশেষ অস্ত্র হিসেবে মুক্তচিন্তক ও নাস্তিকদের প্রতি একটি অতিপরিচিত প্রশ্ন ছুড়ে দেন: “ভাই, মৃত্যুর পর যদি দেখা যায় জান্নাত-জাহান্নাম বা সৃষ্টিকর্তা আসলেই নেই, তাহলে তো আপনাদের কোনো লাভ হলো না, আমাদেরও কোনো ক্ষতি হলো না। কিন্তু মৃত্যুর পর সৃষ্টিকর্তা সত্য হলে এবং পরকাল বলতে যদি সত্যি কিছু থেকে থাকে, তখন আপনাদের কী হবে? আমরা তো অন্তত বেঁচে যাব!” দর্শনের ভাষায় এই…
Read moreএকটি সামান্য ঘড়ির সৃষ্টিকর্তা থাকলে মানুষ বা প্রকৃতির সৃষ্টিকর্তা থাকবে না কেন: ওয়াচমেকার ফ্যালাসি খণ্ডন
ধর্মীয় আলোচনা বা বিতর্কে ধার্মিকদের সবচেয়ে পছন্দের দাবিগুলোর একটি হলো ঘড়ি বা মোবাইলের উদাহরণ, যা যুক্তিশাস্ত্রে ওয়াচমেকার ফ্যালাসি খণ্ডন আলোচনার একটি অন্যতম বিষয়। তাদের যুক্তিটা এমন—“মরুভূমিতে একটি ঘড়ি বা মোবাইল কুড়িয়ে পেলে আপনি কখনোই ভাববেন না যে এটি বালু আর বাতাসের ঘর্ষণে নিজে নিজে তৈরি হয়েছে। আপনি নিশ্চিত হবেন যে এর একজন সৃষ্টিকর্তা বা কারিগর আছে। তাহলে মানুষের মতো জটিল প্রাণী কিংবা এই বিশ্বজগৎ কীভাবে কোনো সৃষ্টিকর্তা ছাড়া নিজে নিজে তৈরি…
Read moreমা-বাবাকে প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস করলে, আল্লাহকে কেন নয়?
ধর্মীয় আলোচনা বা যুক্তিতর্কে অন্ধবিশ্বাসীরা প্রায়ই একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন—“আপনি কি নিজের চোখে দেখেছেন আপনার মা-বাবার মিলনে আপনার জন্ম হয়েছে? দেখেননি। তবুও কি তাদের মা-বাবা বলে মানেন না? তবে প্রমাণ ছাড়া ঈশ্বর বা আল্লাহকে বিশ্বাস করতে সমস্যা কোথায়?” প্রথম দর্শনে এই যুক্তিটি বেশ বুদ্ধিদীপ্ত ও গোলকধাঁধাঁপূর্ণ মনে হতে পারে। কিন্তু যুক্তির কষ্টিপাথরে বিচার করলে দেখা যায়, এটি একটি চরম পর্যায়ের ভুল উপমার কুযুক্তি বা False Analogy। দৃশ্যমান মা-বাবার অস্তিত্বকে…
Read moreমৃত্যুর পর কি হবে?
জন্মের আগে যেমন ছিল মৃত্যুর পরও তেমনই হবে। জন্মের আগে আমরা কি আমাদের অস্তিত্বকে অনুভব করতে পারতাম? জন্মের আগে আমাদের কি সুখ বা দুঃখের অনুভূতি হত? নিশ্চয়ই না! ঠিক তেমনি মৃত্যুর পরেও আমরা আমাদের অস্তিত্বকে অনুভব করতে পারব না; কোন প্রকার সুখ-দুঃখের অনুভূতি আর থাকবে না। কারণ মানুষের চিন্তাশক্তি এবং অনুভূতির উদ্ভব হয় মস্তিষ্কের ভিতরে থাকা নিউরোন এর অতিমাত্রায় জটিল পারস্পরিক আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে। মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার…
Read moreপরকাল না থাকলে মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য কি?
মুমিন ভাইটি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, স্রষ্টা না থাকলে, পরকালে বিচার আচার, পুরষ্কার বা শাস্তি না থাকলে, বেহেশত দোজখ না থাকলে আমাদের অস্তিত্বের কোন উদ্দেশ্যই থাকে না। এগুলো না থাকলে আমাদের অস্তিত্ব অর্থহীন হয়ে যায়। কোন আলটিমেট উদ্দেশ্য না থাকলে বেঁচে থাকার কোন মানে হয় না। তাহলে নাস্তিকদের এই অর্থহীন জীবনের মানে কী? তারা মরে যাচ্ছে না কেন? প্রশ্নটির উত্তর দেয়ার আগে আমার জানা দরকার, যেই স্রষ্টার কথা আপনি বলছেন,…
Read moreবাকস্বাধীনতা বনাম ইসলাম
সম্প্রতি ব্রুনাইতে ইসলাম ধর্ম ও নবীকে নিয়ে সমালোচনা বা কটুক্তিকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির বিধান করা হয়েছে। এমনকি সকল মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতেও ইসলাম ধর্ম ও নবীকে নিয়ে সমালোচনা করলে মৃত্যুদণ্ড, হত্যা, কারাবন্দী, দীর্ঘমেয়াদী শাস্তিসহ বিভিন্ন সমস্যার শিকার হতে হয়, যা সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। প্রতিটি সমালোচনাই কারো না কারো অনুভূতিতে আঘাত করে। এভাবে সবাই যদি ইসলামের মতো অভিযোগ করে স্বৈরাচারী আইন করে তবে কোন মানুষই সমালোচনা করতে পারবে না, এমনকি মুসলিমরাও না।…
Read more











