আমি, আমিনুল হক (ছদ্মনাম), একজন হাফেজ এবং মাওলানা। হাফেজি এবং মাওলানা লাইন মিলিয়ে আমি মোট ১৪ বছর মাদ্রাসা জীবন অতিবাহিত করি।
আমি স্কুলে ভালো ছাত্র থাকা সত্ত্বেও তৃতীয় শ্রেণী পাশ করার পরই মসজিদের ইমামের পরামর্শে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমার বাবা আমাকে কওমি মাদ্রাসায় হিফজ বিভাগে ভর্তি করিয়ে দেন এবং হাফেজি শেষ করে পরে আমি মাওলানা লাইনে ভর্তি হই। আমার বাবা পেশায় স্কুল শিক্ষক হলেও তিনি খুবই হুজুরভক্ত ছিলেন। অনেক হুজুররা ভক্তদের বুঝিয়ে সুজিয়ে তৎক্ষনাৎ আল্লাহকে সাক্ষী রেখে ওয়াদা করিয়ে ফেলে যে একজন সন্তানকে যেন মাদ্রাসায় দেয়। এ নিয়ে একটি ইসলামিক গজলও প্রচলিত আছে ‘মাগো তোমার একটি ছেলে মাদ্রাসাতে দিও, বিনিময়ে জান্নাত কিনে নিও’ এই ধরনের। মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার পর আমার জীবনে নেমে আসে সকল প্রতিবন্ধকতা ; কেড়ে নেয়া হয় আমার সকল শিশু অধিকার। আমার স্কুলের বন্ধুদের সাথে কথা বলা এবং মেশা নিষিদ্ধ করে দেয়া হয় যেটাতে খুবই কষ্ট পাই। স্কুল কলেজের শিক্ষার প্রতি একধরণের বিদ্বেষ আমাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয় এবং বুঝানো হয় পড়াশোনার বিন্দুমাত্র মূল্য আল্লাহর কাছে নেই। এমনভাবে ব্রেইনওয়াশ করানো হয় যেন শুধু যারা কওমি মাদ্রাসায় পড়ে তারাই জান্নাতে যাবে।
মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার পরই আমার সাধারণ চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। আমি মাদ্রাসা বহির্ভূত কোন বই পড়তে পারতাম না, মাদ্রাসায় কাছেই বড় মাঠ ছিলো কিন্তু সেখানে খেলতে দেয়া হতো না। মাদ্রাসার ছোট সীমানার মধ্যে যেটুকু জায়গা আছে সেটুকুতেই খেলতে হতো। বড় মাঠে খেলার কারণে আমাকে এবং অনেক ছাত্রকে বেত্রাঘাত করা হয়েছিলো। টিভি দেখাও ছিলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একটি শিশু যদি সঠিক চিত্তবিনোদন না পায় তার কিভাবে সুস্থ বিকাশ হবে? এটি প্রায় সবগুলো আবাসিক কওমি মাদ্রাসার চিত্র। সঠিক বিনোদনের ব্যবস্থা নেই, নেই কোন সহনশীলতা এবং উদার মানবিকতার শিক্ষা। শৈশব থেকেই একটি শিশুকে সাম্প্রদায়িকতা শেখানো হয়। অমুসলিম তো পরের কথা, মুসলিমদের মধ্যে যারা স্কুলে পড়ে তাদের প্রতি শেখানো বিদ্বেষ এবং করা হয় বিভক্তি, শেখানো হয় লৈঙ্গিক বৈষম্য।
কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিশু নির্যাতন এবং বলাৎকার প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা এবং আমি নিজেও এসবের শিকার হয়েছিলাম শিক্ষক এবং সিনিয়র শিক্ষার্থী দ্বারা। বিশেষভাবে হাফেজী মাদ্রাসাগুলোতে প্রচুর মারা হয় এবং যারা পড়তে চায় না তাদের শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। কারণে-অকারণে বা ছোটখাটো কারণে প্রচন্ড পেটানো হয়। আমি মূলত জাহান্নামের ভয়ে পড়তাম এবং বুঝানো হতো মাদ্রাসা ভর্তি হয়ে যদি বের হয়ে যাই তাহলে আমার উপর থেকে আল্লাহর রহমত উঠে যাবে ; তার পরিবর্তে অভিশাপ বর্ষিত হবে। তখন মনে হতো যেন মাদ্রাসায় না পড়লে আমি এবং আমার পরিবার জান্নাতে যেতে পারবে না, কিন্তুু আমার যেসব সহপাঠীরা পড়তে চাইতো না তাদের খুবই প্রহার করা হতো এবং শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। আরও দুঃখজনক হলো হাফেজি মাদ্রাসার সবাই শিশু, বয়স ৭ থেকে ১৫ এর মধ্যে। যখন আমাদের মায়ের বুকে ঘুমানোর কথা তখন ঘুমাতে হতো বাড়িঘর ছেড়ে আবাসিক মাদ্রাসায় আর শিকার হতে হতো শারিরীক এবং যৌন নির্যাতনের। ঘুম তো নেই বললেই চলে। যেখানে শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য তুলনামূলক বেশি ঘুমানো উচিত, সেখানে আমাদের রাতের ৩/৪ টায় উঠে যেতে হতো। তার উপর আমাদের প্রচুর জ্বীনের ভয় দেখানো হতো। এসব অলৌকিক এবং অযৌক্তিক ভয়গুলো প্রচন্ড নেতিবাচক প্রভাব ফেলতো এবং অনেকেই মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে যেতো।
তাছাড়া, মাদ্রাসায় প্রচুর মারা হয় বলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের খুব ভয় পায় এবং তাই তারা ভয়ে তাদের উপর হওয়া অন্যায় এবং বলাৎকারের ঘটনাগুলো প্রকাশ করে না। আবার অনেক ছাত্রকে হুজুর ওসবের বিনিময়ে কিছু সুযোগ সুবিধা দেয় বলে তারা খুশি মনে মেনে নেয়। অনেকে লজ্জায় বা মাদ্রাসার বদনাম হবে বলেও প্রকাশ করে না এবং আমাদের শেখানো হতো “যে ব্যক্তি একজন মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবে।” অন্যদিকে যেহেতু ইমাম বা মাদ্রাসা শিক্ষকদের সাথে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভালো সম্পর্ক থাকে এবং মাদ্রাসায় সাংবাদিকদের নজরদারি কম তাই এসব ঘটনা খুবই কম প্রকাশ পায়। এটাকে আমার মাদ্রাসায় হাতে মশকরা বলতো যাতে সাধারণ মানুষ না বুঝতে পারে। বর্তমানে মাদ্রাসায় বলাৎকার বেড়েছে ব্যাপারটা কিন্তু এমন নয়, বরং এখন কিছু ঘটনার নিউজ হচ্ছে যা আগে হতো না। বলাৎকার এবং নির্যাতন আগেও ছিলো এখনও আছে। এগুলো আবাসিক মাদ্রাসাগুলো খুবই বেশি, অনাবাসিক মাদ্রাসাগুলো তুলনামূলক কম। আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে জানাজানি কম হয় কারণ জনসাধারণের আনাগোনা খুবই কম এবং ছাত্ররা মাসে বা ৩মাসে ১বার বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ পায় আর ততদিনে এসব ভুলে যায়। বলাৎকার কথাটা শুনলে আমরা যেমন আঁতকে উঠি তা মাদ্রাসা ছাত্রদের ক্ষেত্রে হয় না, কারণ তাদের কাছে সাধারণ ঘটনা। কোন পরিবেশে একটি অপরাধ যখন প্রতিনিয়ত হয় তখন এটা সেই পরিবেশে মানুষের কাছে স্বাভাবিক হয়ে যায়। বলাৎকারের অপরাধে যেসব মাদ্রাসা শিক্ষকদের গ্রেফতার করা হয় তাদের বিচার কার্যকর হয় না, বরং কয়েকমাস জেল খাটার তারা বের হয়ে আপোস করে বা বিভিন্নভাবে পার পেয়ে যায়৷
এবার আসি পাঠ্যক্রমে, কওমি মাদ্রাসার আরও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো পাঠ্যক্রম। একটি সঠিক পাঠ্যক্রম মানুষকে সঠিকভাবে ভাবতে শেখায় এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে কওমি মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম খুবই হাতাশাজনক। এখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ানো হয় না, পড়ানো হয় বিভিন্ন জঙ্গিদের বীরত্বের কাহিনি। এর কারণে মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার প্রতি তাদের শ্রদ্ধা নেই বললেই নেই। তারা তো স্বাধীনতার ইতিহাস এবং প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেই জানে না। তাই তাদের অধিকাংশ মনে করে পাকিস্তান থাকলেই ভালো ছিলো।
তাদের উর্দু আরবি ফার্সী শেখানো হয় অথচ বাংলা ভালোভাবে পড়ানো হয় না, তারা পাকিস্তানি কবি ইকবালের কবিতা সুর করে আবৃত্তি করে কিন্তু রবীন্দ্রনাথ নজরুলের সাহিত্য সম্পর্কে জানে না; জানে না নিজের দেশের শিল্প, সাহিত্য এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে। অথচ একজন নাগরিকের জন্য এসব জানা আবশ্যক। সাহিত্য একজন মানুষকে সমাজকে অনুভব করতে শেখায় এবং সহনশীল করে তোলে অথচ মাদ্রাসায় ন্যূনতম সাহিত্যও পড়ানো হয় না। অথচ এসব সাহিত্য পড়ানো হলে তাদের মাঝে এতো নারীবিদ্বেষ থাকতো না। অন্ততপক্ষে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পগুলো পড়লেও তারা নারীকে বুঝতে শিখতো। মাদ্রাসায় পাকিস্তান, আআফগানিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের মনীষীদের জীবনী পড়ানো হয়, অথচ বাংলার মনীষীদের সম্পর্কে রাখা হয় অজ্ঞ। তারা যেন বাংলাদেশের মধ্যে আরেকটি দেশে বসবাস করছে যাদের সাথে জ্ঞানের দিক থেকে বাংলাদেশের সম্পর্ক নেই, আছে বিশেষ কিছু দেশের। মানবসভ্যতা, জ্ঞান বিজ্ঞান এবং দর্শনের ইতিহাস পড়ানো হয় না, তারা মনে করে ১৪০০ বছর পূর্বে বুঝি জ্ঞান বিজ্ঞান বলতে কিছু ছিলো না, পূরো পৃথিবী অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলো এবং কুরআন আসার পরই মানুষ জ্ঞান বিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে পরেছে।
তাছাড়া, মাদ্রাসাগুলোতে ইসলামিক বই ছাড়া অন্যকোন বই রাখতে এবং পড়তে দেয়া হয় না, এমনকি ছাত্রদের পত্রিকাও পড়তে দেয়া হয় না।
মাদ্রাসার আরেকটি সমস্যা হলো অমুসলিম বিদ্বেষ। সবসময় অমুসলিমদের নিয়ে বিষদ্গার করা হয় এবং শেখানো হয় যে অমুসলিম মানে খুব খারাপ। অথচ তাদের যদি অমুসলিম মনীষীদের জীবনী এবং মানবসভ্যতায় তাদের অবদান পড়ানো হতো তবে তাদের মধ্যে অমুসলিম বিদ্বেষ কমতো। রবীন্দ্রনাথকে তারা শুধু অমুসলিম বলে ঘৃণা করে, অথচ মোল্লাতন্ত্র এবং ইসলামি মৌলবাদের বিরুদ্ধে বেশি লিখেছিলেন নজরুল, আর রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন হিন্দুধর্মের মৌলবাদের বিরুদ্ধে।
মাদ্রাসা থেকে জেনারেল লাইনে আসার পর আমি যখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বাঙালির ইতিহাস, মানুষের ইতিহাস, বাংলা সাহিত্য, বিশ্ব মানবসভ্যতা, গ্রিক দর্শন, ভারতীয় দর্শন, জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইতিহাস এবং অমুসলিম মনীষীদের জীবনী পড়ি, তখন আমি অবাক হই ; খুবই অবাক হই যে কতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা থেকে আমি বিরত ছিলাম!
কওমি মাদ্রাসার সংগঠন হেফাজত প্রায়ই স্কুলে যৌনশিক্ষার বিরোধিতা করে, তাদের হুমকিতে স্কুলে যৌনশিক্ষা পড়ানো হয় না অথচ তারা নিজেরা মাদ্রাসায় যৌনতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করে, কোনটা করা জায়েজ বা নাজায়েজ সেসব বিধান নিয়ে একদম ভেঙে ভেঙে আলোচনা করে কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো সেখানে যৌনতার বিষয়ে অমানবিক,অবৈজ্ঞানিক এবং নারীবিদ্বেষী শিক্ষা দেয়া হয়ে থাকে, নারীকে অব্জেক্টিফাই করা হয় এবং ভোগ্যপণ্যের সাথে তুলনা করা হয়।
মাদ্রাসাগুলোর অর্থের উৎস এবং আয় ব্যয়ের হিসেব নিয়ে সরকারি কোন তদারকি নেই। যার ফলে আজকাল মাদ্রাসা বানানো যেন ব্যবসা হয়ে যাচ্ছে। এদিকে দূর্নীতিবাজদের টাকা দিয়েও ব্যাঙের ছাতার মধ্যে গড়ে উঠছে নামে বেনামে মাদ্রাসা। সেগুলোতে নেই কোন তদারকি, নেই সঠিক শিক্ষা। হারাম টাকা দিয়ে মাদ্রাসা মসজিদ বানানো ইসলামে নিষিদ্ধ হলেও ধর্মব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার স্বার্থে সেটার তোয়াক্কা করছে না। তারা মাদ্রাসা বানিয়ে নিজেদের অপকর্ম চরিতার্থ করছে এবং নিজেকে ভালো মানুষ মানুষের কাছে পোট্রের্ট করছে। অথচ সেসব মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে শিশু নির্যাতন এবং বলাৎকারের আঁতুড়ঘর। স্কুল কলেজের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে যাকে তাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে এবং তারা ছাত্রদের পশুর মতো পেটাচ্ছে। ছাত্রদের দিয়ে হাত পা সব টেপাচ্ছে। বাড়ির সব কাছ কাজ করাচ্ছে। কিছুদিন আগেও একটি নিউজ হয়েছে যে হুজুরের বড়িতে গাছের ডাল কাটতে গিয়ে ছাত্র নিহত। অথচ হুজুরের বাড়ির কাজ করা কি শিশু ছাত্রদের কাজ?
মাদ্রাসায় সবচেয়ে বড় যে সমস্যা তা হলো জঙ্গিবাদ। অনেকে বলার চেষ্টা করে যে মাদ্রাসায় জঙ্গি তৈরি হলে স্কুল কলেজের ছাত্রদের কেন আমরা জঙ্গি হামলায় দেখি। আসলে এটা খুবই ঠুনকো যুক্তি। মাদ্রাসা তো নিজেদের মতাদর্শকে নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে না। বরং ওয়াজ মাহফিল এবং তাবলীগসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এগুলো ছড়িয়ে দেয়া হয় সাধারণ ধর্মান্ধ মানুষের মাঝে। নেতারা তো সবসময় মারামারিতে যায় না, অধিকাংশ সময় অনুসারীদের পাঠায়। ধর্ম ব্যবসায়ীরা নিজেরা তো সরাসরি জঙ্গিবাদে জড়াবে না, বরং অনুসারীদের যুক্ত এবং উদ্বুদ্ধ করবে। তাই জঙ্গিবাদ, উগ্রতা এবং অমুসলিম বিদ্বেষ যেখান থেকে শেখানো হয় সেখানে সংস্কার করা প্রয়োজন।
জঙ্গিবাদ শুধু জোর করে বন্ধ করা যাবে না, এর জন্য প্রয়োজন সঠিক পাঠ্যক্রম, পরিবেশ এবং মানসিকতার পরিবর্তন। আমাদের বলা হতো “যেটাকে জঙ্গিবাদ বলা হয় সেটা হলো জিহাদ। আর এই জিহাদ ইসলামে ফরজ। এখন ফাসেক সরকার ক্ষমতায় বা সরকারি চাপে সেটা করা যাচ্ছে না, কিন্তু তার মানে এই নয় যে জঙ্গিবাদ খারাপ কিছু এবং তালেবান আল কায়েদা আমাদেরই ভাই। একদিন আমরা অমুসলিমদের পরাজিত করে পুরো পৃথিবীতে দখল করে ইসলামি শাসন কায়েম করবো। অমুসলিমদের মা, বোন এবং স্ত্রীরা আমাদের দাসী হবে। ইমাম মাহদী খুব শীঘ্রই আসবে এবং জিহাদের জন্য আমাদের সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। ” এগুলো শুধু মাদ্রাসাতেই নয়, ওয়াজ মাহফিল এবং বিভিন্ন ভিডিওতেও তারা বলে থাকে। মাদ্রাসায় অন্যান্য সাধারণ বই নিষিদ্ধ থাকলেও জঙ্গিবাদ বিষয়ক বইগুলো উপরের ক্লাসের ছাত্রদের পড়ার অনুমতি থাকতো। মাওলানা পাশ করা অনেক ছাত্ররা আফগানিস্তান থেকে জঙ্গি ট্রেনিংও নিয়ে আসতো এবং শিক্ষকতার আড়ালে বাকিদের ওই ট্রেইনিং দিতো। এছাড়াও, বিভিন্ন মাদ্রাসায় জঙ্গিদের মিটিং হয় কারণ তাদের জন্য মাদ্রাসা সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। তাছাড়া কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররাও এসব জঙ্গি সংগঠনকে ইতিবাচকভাবেই দেখে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন হাফেজি মাদ্রাসায় জামাত – শিবিরের মিটিং হয়।
তাই এই জঙ্গিবাদ বন্ধ করতে হলে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করে বা রণ উন্মাদনা তৈরি করে এমন পাঠ্যক্রম বাদ দেয়াপূর্বক বিভিন্ন ধর্মের এবং অমুসলিমদের ইতিবাচক দিক তুলে ধরা প্রয়োজন। মাননীয় সরকারের প্রতি আমার পরামর্শ, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাপনার উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ, সঠিক চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা, পাঠ্যক্রম সংস্কার, শিক্ষকদের সরকারি তদারকিতে প্রশিক্ষণ এসব নিশ্চিত হোক করা হোক এবং মাদ্রাসা থেকে উগ্রবাদকে বিতাড়িত করা হোক।






