ধরা খেলেই বলে: “বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল, কিন্তু ইসলাম অপরিবর্তনশীল?” জানুন অবাক করা সত্য!

আমাদের সমাজে ধর্মীয় বিতর্কের সময় প্রায়ই একটি বিশেষ বৈপরীত্য দেখা যায়। যখন কোনো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সাথে ধর্মগ্রন্থের কোনো আয়াতের দূরবর্তী রূপক মিলও খুঁজে পাওয়া যায়, তখন উৎসাহের সাথে দাবি করা হয়, “দেখো, ১৪০০ বছর আগেই কোরআনে এই বৈজ্ঞানিক সত্যের কথা বলা ছিল!” কিন্তু ঠিক যখনই কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণের মুখোমুখি দাঁড়াতে হয় যা ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক, তখনই রাতারাতি ১৮০ ডিগ্রি অবস্থান বদলে বলা হয়, “বিজ্ঞান তো আজ এক কথা বলে, কাল আরেক কথা বলে—বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল, কিন্তু ধর্ম অপরিবর্তনশীল।”

কিন্তু, বাস্তব ইতিহাস ও গভীর বিশ্লেষণ ঠিক এর বিপরীত চিত্র দেখায়। সত্যটা হলো—ইসলামের ফতোয়া, বিধান কিংবা কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যার রূপান্তর আসলে বিজ্ঞান এবং সামাজিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করেই ঘটে। বিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং সামাজিক পরিবর্তন যখন পুরোনো কোনো ফতোয়া বা শাব্দিক ব্যাখ্যাকে অচল করে দেয়, তখনই বাধ্য হয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যার ভোল পাল্টানো হয়। অন্যদিকে, বিজ্ঞান কখনো কোনো ধর্মগ্রন্থ বা সামাজিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে নিজের সত্য পরিবর্তন করে না; বিজ্ঞানের ভিত্তি কেবলই বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ ও পরীক্ষা।

তাই এই দ্বিমুখী অবস্থান এবং ‘পরিবর্তনশীল বিজ্ঞান’ বনাম ‘অপরিবর্তনশীল ধর্ম’ সংক্রান্ত দাবির পেছনে যে যুক্তিগুলো দাঁড় করানো হয়, তা বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি সম্পর্কে যেমন বিভ্রান্তিকর, তেমনি ইতিহাসের বিচারে ধর্মের ক্ষেত্রেও একটি সুবিধাবাদী দাবি মাত্র।

Table of Contents

১. ইসলামি অপোলজেটিক্স ও তাদের দ্বিমুখী কৌশল (Cherry Picking)

ধর্মীয় প্রচারকরা বিজ্ঞানের সাথে তাদের সম্পর্কটি কীভাবে নির্ধারণ করেন, তা পর্যবেক্ষণ করলে একটি দ্বিচারিতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে:

১.১ যখন নিজেদের সুবিধা:
কোরআন বা হাদিসের কোনো অস্পষ্ট কথা বা রূপক বাক্যকে বিজ্ঞানের কোনো সাম্প্রতিক আবিষ্কারের সাথে মিলিয়ে চেরি প্যাকিং (সুবিধাজনক তথ্য বেছে নেওয়া) করা হয়। তখন চিৎকার করে বলা হয় যে বিজ্ঞান ইসলামকে সত্য প্রমাণ করছে। এই সময়ে কিন্তু বিজ্ঞানকে ‘পরিবর্তনশীল’ বা ‘অবিশ্বস্ত’ বলা হয় না; বরং বিজ্ঞানকেই প্রমাণের মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

১.২ যখন বৈজ্ঞানিক তথ্যের সাথে বিরোধ:
কিন্তু যখনই এমন কোনো অলৌকিক দাবি বা বৈজ্ঞানিক তথ্য সামনে আসে যা বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত সত্যের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক (যেমন: জিন-ভূতের অস্তিত্ব, বিশেষ অলৌকিক ঘটনাবলি, কিংবা মানবজাতির উৎপত্তি সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠিত বিবর্তনবাদ), তখনই তারা ১৮০ ডিগ্রি মোড় নেন। তখন বলা শুরু হয়, “বিজ্ঞানের কথা বিশ্বাস করা যাবে না, কারণ বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল।”

বিজ্ঞানের মানদণ্ডকে নিজেদের সুবিধামত গ্রহণ করা এবং অসুবিধা হলেই তাকে প্রত্যাখ্যান করা একটি বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক আত্মপক্ষ সমর্থন ছাড়া আর কিছু নয়।

২. বিজ্ঞান কীভাবে কাজ করে এবং কোন জিনিসগুলো আসলে পরিবর্তন হয়, আর কোনগুলো নয়?

বিজ্ঞান মানেই আজ এক দাবি করা আর কাল সম্পূর্ণ উল্টে যাওয়া—এই ধারণাটি একটি বিরাট ভুল। বিজ্ঞানে কয়েকটি স্পষ্ট ধাপ রয়েছে:

ক. বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণিত সত্য (Scientific Facts):


এগুলো এমন বিষয় যা সরাসরি পর্যবেক্ষণযোগ্য এবং বারবার পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য প্রমাণিত। যেমন, পৃথিবীর মহাকর্ষ বলের অস্তিত্ব, পানি ফুটালে বাষ্পে পরিণত হওয়া, কিংবা পৃথিবীর গোলকাকার রূপ ও সূর্যের চারদিকে ঘুরে চলার বিষয়গুলো। এগুলো কখনো পরিবর্তিত হয় না। বিজ্ঞান আজ থেকে ১০০ বছর পরেও বলবে না যে পৃথিবী আবার সমতল হয়ে গেছে।

খ. বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ও অনুমান (Hypothesis and Theories):


বিজ্ঞান যা পরিবর্তন করে, তা হলো কোনো ঘটনার ব্যাখ্যার পদ্ধতি। যখন কোনো নতুন পর্যবেক্ষণ আসে বা উন্নত প্রযুক্তি আবিষ্কার হয়, তখন পুরোনো অনুমানের চেয়ে আরও নিখুঁত ও সমৃদ্ধ তত্ত্ব সামনে আসে। যেমন নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হয়নি, বরং আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের মাধ্যমে তা আরও সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত রূপ পেয়েছে।
অতএব, বিজ্ঞান যখন বদলায়, তার অর্থ এই নয় যে পুরোনো সত্যগুলো মিথ্যা হয়ে গেল; বরং বিজ্ঞানের এই সংশোধনী ক্ষমতাই সত্যের আরও কাছাকাছি ও নিখুঁত ব্যাখ্যার দিকে তাকে এগিয়ে নেয়। এটি বিজ্ঞানের দুর্বলতা নয়, শক্তি।

৩. ‘ইসলাম বা ধর্ম অপরিবর্তনশীল’—এই দাবিটি কতটুকু সত্য?

বাস্তবে ইতিহাস ও ইসলামি স্কলারদের ব্যাখ্যার দিকে তাকালে দেখা যায়, ধর্মীয় চিন্তাভাবনা ও বিধান যুগের সাথে সাথে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়েছে এবং হচ্ছে।

১. বৈজ্ঞানিক ও জাগতিক সত্যের বিষয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যার ঐতিহাসিক রূপান্তর

গ্রিক বিজ্ঞান ও দর্শনের মূলগ্রন্থগুলো আরবিতে অনূদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত (অর্থাৎ ৮ম-৯ম শতাব্দী বা আব্বাসীয় আমলের ‘বায়তুল হিকমাহ’ প্রতিষ্ঠার আগে) আদি মুসলিম সমাজ, সাহাবি, তাবেইন এবং প্রাথমিক মুফাসসিরদের মধ্যে বিশ্বজগৎ নিয়ে প্রচলিত পর্যবেক্ষণনির্ভর ও অবৈজ্ঞানিক ধারণাই সর্বজনগ্রাহ্য ছিল। উদাহরণস্বরূপ—সূরা আল-কাহাফ (১৮:৮৬ নং আয়াত), সূরা আত-ত্বারিক (৮৬:৬-৭ নং আয়াত), সূরা আল-বাকারা (২:২২ নং আয়াত) কিংবা সূরা আল-গাশিয়াহ (৮৮:২০ নং আয়াত)-এর মতো আয়াতগুলোর সরাসরি শাব্দিক অর্থ গ্রহণ করে প্রারম্ভিক তাফসিরকারকগণ (যেমন তাফসিরে তবারির বর্ণনা) বিশ্বাস করতেন যে পৃথিবী সমতল, পানির ওপর ভাসমান, সূর্য দিনশেষে কাদা বা পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যায় এবং পুরুষের বীর্য মেরুদণ্ড ও পাজরের হাড়ের মাঝখান থেকে উৎপন্ন হয়।

৮ম থেকে ৯ম শতাব্দীতে যখন অ্যারিস্টটল, গ্যালেন এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানী তলমির গ্রন্থগুলো আরবিতে অনূদিত হতে শুরু করল, তখন পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের মুক্তমনা ও যুক্তিভিত্তিক পণ্ডিতরা (যেমন ইবনে সিনা, আল-বিরুনি) যখন গ্রিক গণিত ও জ্যামিতিক প্রমাণের সাহায্যে গোলাকার পৃথিবী ও মহাজাগতিক গতির ব্যাখ্যা দিতে শুরু করলেন, তখন ধর্মীয় চিন্তাধারায় বড় ধাক্কা লাগে। এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের মুখে দাঁড়িয়ে প্রথাগত ধর্মীয় ব্যবস্থার পতন ঠেকাতে ইবনে হাজম বা ইবনে তাইমিয়ার মতো তৎকালীন কিছু তুলনামূলক চতুর ও দূরদর্শী ইসলামিক স্কলাররা বুঝতে পারলেন যে, গাণিতিক ও প্রত্যক্ষ প্রমাণকে পুরোপুরি অস্বীকার করা অসম্ভব। তারা তখন কৌশল বদলে কোরআনের ‘দাহাহা’ (বিছিয়ে দেওয়া) বা ‘সুতিহাত’ (সমতল করা)-এর মতো শব্দগুলোর প্রচলিত শাব্দিক ব্যাখ্যা পরিবর্তন করে রূপক অর্থ দিতে শুরু করলেন এবং দাবি করতে লাগলেন যে কোরআন আসলে নাকি গোলকাকার পৃথিবীর কথাই বলেছে!

তবে এই ব্যাখ্যার পরিবর্তন কিন্তু রাতারাতি সার্বজনীন হয়নি। সিংহভাগ সাধারণ আলেম ও কট্টর স্কলার পরবর্তী বহু শতাব্দী ধরে পুরোনো শাব্দিক ও অবৈজ্ঞানিক ধারণাতেই অটল ছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ইবনে বাজ ২০ শতকের মাঝামাঝি সময়েও (১৯৫০-এর দশকে) বই লিখে দাবি করেছিলেন যে পৃথিবী স্থির ও সমতল, এবং যে বলবে পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে সে বিভ্রান্ত ও সত্যত্যাগী।

কিন্তু আধুনিক মহাকাশ বিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এবং সরাসরি মহাকাশযাত্রার যুগে এসে যখন ভৌগোলিক ও মহাজাগতিক সত্যগুলো খালি চোখে দেখার মতো স্পষ্ট হয়ে গেল, তখন জল বহুদূর গড়িয়ে গেছে। বিজ্ঞানের সাথে কোনোভাবেই পেরে না উঠে বর্তমানে প্রায় সব ইসলামিক স্কলারই পুরোপুরি ১৮০ ডিগ্রি পল্টি মেরেছেন। যেসব আয়াত দিয়ে একসময় পৃথিবী সমতল বলে প্রচার করা হতো, আজ আধুনিক বিজ্ঞানের বাধ্যবাধকতায় সেসব আয়াতের সম্পূর্ণ নতুন ও বিপরীতমুখী ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হচ্ছে।

শুধু পৃথিবীর আকৃতিই নয়, বিজ্ঞানের অবধারিত অগ্রগতির মুখে এমন আরও বহু বিষয়ে ইসলামিক ব্যাখ্যার ভোল পাল্টে গেছে:

ক. ভ্রূণতত্ত্ব ও বীর্যের উৎস: প্রারম্ভিক যুগের সব আলেমদের বিশ্বাস ছিল বীর্য উৎপন্ন হয় পিঠের হাড় ও বুকের ছাতির মাঝখান থেকে (সূরা আত-ত্বারিক ৮৬:৬-৭)। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে অণ্ডকোষের ভূমিকা শতভাগ প্রমাণিত হওয়ার পর এখন বলা হচ্ছে ‘ছুলব ও তারায়েব’ বলতে মানুষের বংশাণুক্রমিক কোষ বা ভিন্ন কোনো রূপক অর্থ বোঝানো হয়েছে।

খ. রোগব্যাধি ও চিকিৎসাবিজ্ঞান: অতীতে প্রায় সব ধর্মীয় স্কলার বিশ্বাস করতেন জন্ডিস, প্লেগ বা মহামারি কেবলই আল্লাহর গজব, জিনের আছর বা কুদৃষ্টির ফল এবং এর একমাত্র চিকিৎসা ঝাড়ফুঁক বা কালজিরা-মধু। কিন্তু আধুনিক অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology) যখন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব প্রমাণ করল, তখন আধুনিক স্কলাররা ল্যাবরেটরি চিকিৎসা ও টিকাদানকে সানন্দে গ্রহণ করে ধর্মীয় গ্রন্থে আধুনিক জীববিজ্ঞানের চিহ্ন খোঁজা শুরু করেছেন।

গ. গর্ভস্থ সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ: আগে সূরা লুকমানের (৩১:৩৪) ব্যাথায় স্কলারদের একমাত্র দাবি ছিল যে গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে জানা অলৌকিক ক্ষমতার লঙ্ঘন। কিন্তু আল্ট্রাসনোগ্রাফি আসার পর এখন ব্যাখ্যার মোড় ঘুরিয়ে বলা হচ্ছে—লিঙ্গ নয়, সন্তান সৎ হবে না অসৎ হবে, তা কেবল খোদা জানেন।

এই পুরো ঐতিহাসিক ধারা প্রমাণ করে যে, ধর্মীয় ব্যাখ্যার যে অপরিবর্তনশীলতার দাবি করা হয় তা একটি ভুয়া ও সুবিধাবাদী ধারণা। প্রকৃতপক্ষে, বিজ্ঞানের নতুন ও অখণ্ডনীয় সত্যের সামনে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যার ধরন প্রতিনিয়ত বদলেছে এবং আজও বাধ্য হয়ে বদলাচ্ছে।

২. সময়ের সাথে বিধান, ফতোয়া ও সামাজিক রীতির রূপান্তর

‘ইসলামি বিধান চিরকাল একই রকম আছে’—এই দাবিটি বাস্তব ইতিহাসের মুখোমুখি হলে সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। যুগে যুগে সমাজ, অর্থনীতি ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে সাথে ইসলামিক স্কলারদের ফতোয়া ও শরয়ি হুকুমও ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে।

ক. বিনোদন, খেলাধুলা ও আধুনিক প্রযুক্তি: একসময় ছবি তোলা, ভিডিও করা, ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহার করা, টিভি দেখা কিংবা টেলিভিশনে ধর্মীয় প্রচার করাকে অকাট্য ‘হারাম’ ও কবিরা গুনাহ ঘোষণা করে ফতোয়া দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ফুটবল, ক্রিকেটসহ যেকোনো আধুনিক খেলাধুলা এবং সংগীতকে সময়ের অপচয় ও হারাম বলে গণ্য করা হতো। কিন্তু আজ প্রায় সব ইসলামিক স্কলারই নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ ও টিভি চ্যানেলে ক্যামেরার সামনে বসে ধর্ম প্রচার করছেন, এমনকি খেলাধুলাকেও ‘স্বাস্থ্যচর্চা ও হালাল বিনোদন’ বলে নতুন ফতোয়া দিচ্ছেন।

খ. নারীদের উচ্চশিক্ষা ও আল-কারাউইয়িন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তব উদাহরণ: দীর্ঘ বহু শতাব্দী ধরে ইসলামি আলেমদের একাংশ নারীদের গৃহবন্দি রাখা এবং উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখাকেই ইসলামি পর্দা ও বিধান হিসেবে প্রচার করেছেন। এর বড় ঐতিহাসিক প্রমাণ হলো ৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ফাতিমা আল-ফিহ্রি নামের এক মুসলিম নারীর অর্থায়নে মরক্কোতে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বের প্রাচীনতম ‘আল-কারাউইয়িন বিশ্ববিদ্যালয়’। একজন নারী এটি প্রতিষ্ঠা করলেও দীর্ঘ শত শত বছর ধরে সেখানে কেবল পুরুষদেরই পড়ার অনুমতি ছিল, নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ ছিল না! কিন্তু আধুনিক যুগের মানবাধিকার ও সামাজিক পরিবর্তনের চাপে আজ আলেমদের সিংহভাগই নারীদের আধুনিক ও উচ্চশিক্ষার পক্ষে ফতোয়া দিচ্ছেন।

গ. নারী নেতৃত্ব ও ভোটাধিকারের রাজনীতি: প্রথাগত ইসলামি ফিকহ এবং হাদিসের শাব্দিক ব্যাখ্যার ভিত্তিতে দীর্ঘকাল ধরে আলেম সমাজ নারীদের ভোটাধিকার এবং রাষ্ট্রপ্রধান বা নেতা হওয়ার বিষয়টিকে পুরোপুরি হারাম মনে করতেন। বিশ্বের বহু মুসলিম দেশে নারীদের ভোটাধিকার তো দূরের কথা, জনসম্মুখে আসার অধিকারও ছিল না। উদাহরণস্বরূপ, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে বৈশ্বিক মানবাধিকারের চাপ ও সামাজিক পরিবর্তনের মুখে এসে ২০১৫ সালে নারীরা প্রথম ভোটাধিকার লাভ করেন। একইভাবে, “যে জাতি কোনো নারীকে প্রধান করে তারা সফল হতে পারে না”—এই হাদিসের অজুহাতে প্রায় ৯০% স্কলার ঐতিহাসিকভাবেই নারী নেতৃত্বকে হারাম ঘোষণা করে এসেছেন। কিন্তু আধুনিক বিশ্বের গণতান্ত্রিক কাঠামো, নারী উন্নয়ন এবং আধুনিক সমাজব্যবস্থার চাপের মুখে পড়ে অনেক কট্টর স্কলারদেরও ভোটাধিকারকে ‘হালাল’ বলতে হয়েছে এবং আধুনিক কিছু স্কলার নারী নেতৃত্বের বিষয়েও নিজেদের অবস্থান শিথিল করে নতুন ব্যাখ্যা তৈরির চেষ্টা করছেন।

ঘ. দাসপ্রথা ও দাসী সম্ভোগের বিলুপ্তি: ইসলামি ফিকহ ও ইতিহাসে বহু শতাব্দী ধরে দাস-দাসী কেনাবেচা, যুদ্ধলব্ধ নারী দাসীদের সাথে সহবাস এবং দাসপ্রথার সুনির্দিষ্ট আইনি বিধান কার্যকর ছিল। কোরআন ও হাদিসে দাসপ্রথাকে সরাসরি অবৈধ ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু ১৯ ও ২০ শতকে আন্তর্জাতিক চাপ এবং বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারের স্বীকৃতি আসার পর আধুনিক স্কলাররা দাসপ্রথাকে পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য ও বিলুপ্ত বলে মেনে নিয়েছেন এবং এখন দাবি করছেন ইসলাম নাকি শুরু থেকেই দাসপ্রথা উচ্ছেদের পক্ষে ছিল!

ঙ. হিল্লা বিয়ে ও মুতা বিয়ের বিতর্কিত পরিবর্তন: একসময় তিন তালাকের পর দম্পতিকে পুনরায় এক করার জন্য ‘হিল্লা বিয়ে’ (চুক্তিভিত্তিক সাময়িক বিয়ে)-র প্রথাকে ব্যাপকভাবে ইসলামি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ মনে করা হতো। শিয়া ও প্রাথমিক যুগের কিছু ধারায় ‘মুতা বিয়ে’ (নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্থের বিনিময়ে চুক্তিভিত্তিক বিয়ে) প্রচলিত ছিল। আধুনিক সমাজের আইনি ও নৈতিক মানদণ্ডে যখন এই প্রথাগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘন ও পতিতাবৃত্তির সমতুল্য হিসেবে চিহ্নিত হলো, তখন আধুনিক স্কলারদের বড় অংশই এসব সাময়িক বিয়ে ও হিল্লা প্রথাকে হারাম ও অবৈধ ঘোষণা করে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন।

চ. সুদ বনাম ‘ইসলামিক ব্যাংকিং’-এর কৌশল: কোরআনে ‘রিবা’ বা সুদকে কঠোরভাবে হারাম করা হয়েছে। কিন্তু আধুনিক ধনতান্ত্রিক অর্থনীতিতে সুদের লেনদেন ছাড়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘সুদ’ শব্দটিকে বাদ দিয়ে ‘মুনাফা’, ‘মুদারাবা’ বা ‘মুশারাকা’ নাম দিয়ে কার্যত একই আর্থিক লাভ-ক্ষতির হিসাবকে হালাল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এটি মূলত অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখে পুরনো বিধানের একটি কৌশলগত রূপান্তর।

এই সমস্ত উদাহরণ পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে যে, সামাজিক চাপ, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং বৈশ্বিক পরিবর্তনের মুখে ইসলামি শরিয়াহর ব্যাখ্যা ও ফতোয়া স্থির থাকেনি—বরং প্রতিনিয়ত যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে।

৪. যুক্তিতর্কের মুখে স্কলারদের গোঁজামিল ও আত্মঘাতী স্ববিরোধিতা

এই সমস্ত ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক সত্য যখন তুলে ধরা হয়, তখন ইসলামিক অ্যাপোলজিস্টরা নিজেদের অবস্থান বাঁচাতে বেশ কিছু দুর্বল যুক্তি বা গোঁজামিলের আশ্রয় নিয়ে থাকেন।

যেমন—প্রথমত, তারা দাবি করেন, “ভুলগুলো স্কলারদের, ইসলামের নয়।” কিন্তু যে ধর্মের মূল দাবিই হলো তা স্পষ্ট ও সর্বজনীন, সেখানে দীর্ঘ ১৩০০ বছর ধরে সেরা সাহাবি ও আলেমরা কোরআনের শাব্দিক অর্থ বুঝতে ব্যর্থ হলেন কেন—এই প্রশ্নের কোনো উত্তর তারা দিতে পারেন না। কিন্তু এখানে সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো—তারা যদি দাবি করেন যে আগের ১৩০০ বছরের সব স্কলারদের ব্যাখ্যা ভুল ছিল, তবে আজকের অ্যাপোলজিস্ট বা স্কলাররা যা বলছেন, সেটাই বা সঠিক তার নিশ্চয়তা কী? একই যুক্তিতে আজকের স্কলারদের কথাকেও তো কাল ভুল বলা যেতে পারে! কোরআন-হাদিসের সরাসরি শাব্দিক অর্থ তারা মানবে না, আবার ইতিহাসের সব আলেমদের ব্যাখ্যাকেও ভুল বলবে—তাহলে কি দাঁড়ায়? এর অর্থ দাঁড়ায়, “আসল ইসলাম” আসলে কী, তা বোঝার আর কোনো বস্তুনিষ্ঠ উপায়ই অবশিষ্ট থাকে না।

দ্বিতীয়ত, বিজ্ঞান দিয়ে যা কোনোভাবেই মে মেলানো যায় না, সেগুলোকে রাতারাতি “রূপক বা মেটাফোরিক্যাল” বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অথচ আধুনিক বিজ্ঞানের প্রগতির আগে হাজার বছর ধরে আলেমদের কাছে এগুলো রূপক নয়, বরং সরাসরি সত্য ছিল।

তৃতীয়ত, তারা দাবি করেন, “ইসলামের মূল বিশ্বাস অপরিবর্তনশীল, কিন্তু পরিস্থিতিভেদে ফিকহ বা আইনি ব্যাখ্যা নমনীয়।” এখানেই তৈরি হয় সবচেয়ে বড় স্ববিরোধিতা। কারণ ইসলাম নিজেই দাবি করে যে এটি একটি ‘শাশ্বত’, সর্বকালের ও সর্বযুগের জন্য নির্দিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা। ইসলাম কিন্তু কখনোই স্বীকার করে না যে যুগে যুগে তার মৌলিক বিধান বদলে যাবে। নিজেদের অবস্থান বাঁচাতে একদিকে “ইসলাম অপরিবর্তনশীল ও শাশ্বত” বলে বড়াই করা, আবার অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের চাপে বা সামাজিক পরিবর্তনের কারণে ফতোয়া বদলালে তাকে “নমনীয়তা” বলে চালিয়ে দেওয়া—এটি একটি পরিষ্কার দ্বিমুখী নীতি। প্রমাণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজেদের সুবিধামতো কথা বদলানোর এই অপচেষ্টাই প্রমাণ করে যে, তাদের অবস্থান কতটা ভঙ্গুর।

উপসংহার

“বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল, কিন্তু ধর্ম অপরিবর্তনশীল”—এই বহুল প্রচলিত দাবিটি বাস্তবতার বিচারে একটি সুবিধাবাদী ধারণা মাত্র। প্রথমত, বিজ্ঞানের সবকিছুই রাতারাতি বদলে যায় না। মহাকর্ষ, পৃথিবীর গোলকাকার রূপ বা অনুজীবের অস্তিত্বের মতো প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক সত্যগুলো (Scientific Facts) কখনো পরিবর্তিত হয় না; কেবল অসম্পূর্ণ ধারণা বা তত্ত্বগুলো নতুন তথ্য ও প্রযুক্তির আলোতে আপডেট এবং আরও নিখুঁত হয়। বিজ্ঞানের এই স্ব-সংশোধনী ক্ষমতাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি, যা তাকে অন্ধবিশ্বাসে স্থবির হতে দেয় না।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ধর্ম এবং সামাজিক পরিবর্তনের এই পুরো রূপান্তরে বিজ্ঞান ও সমাজই মূল মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে—বিজ্ঞান কখনো ধর্মকে মাপকাঠি মেনে নিজেকে বদলায় না। কিন্তু ধর্মীয় ব্যবস্থার ইতিহাস ভিন্ন। বিজ্ঞান ও সমাজের অগ্রগতির মুখে যখন পুরোনো ফতোয়া বা শাব্দিক ব্যাখ্যাগুলো আর টিকতে পারে না, তখন ধর্মীয় পণ্ডিতরা সঙ্গে সঙ্গে তা মেনে নেন না; বরং দীর্ঘ সময় ধরে অস্বীকার, বিতর্ক ও জল ঘোলা করার চেষ্টা করেন। অতঃপর বাধ্য হয়ে টিকে থাকার তাগিদে সেই পুরোনো ব্যাখ্যাকেই পাল্টে নতুন রূপক অর্থ বা নমনীয় ফতোয়ার আশ্রয় নেন।

অতএব, সুবিধাজনক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে আপন করে নেওয়া আর অপ্রিয় সত্যের মুখোমুখি হলে তাকে “পরিবর্তনশীল বিজ্ঞান” বলে প্রত্যাখ্যান করা একটি স্পষ্ট দ্বিমুখী নীতি। সত্যকে জানতে হলে তাই স্থবির অন্ধবিশ্বাস কিংবা বিলম্বিত ব্যাখ্যাকৌশলের গোলকধাঁধায় না আটকে, মুক্তচিন্তা ও প্রগতির জন্য বস্তুনিষ্ঠ যুক্তি এবং বিজ্ঞানের গতিশীল পথকেই অনুসরণ করা উচিত।

বহুল জিজ্ঞেসিত প্রশ্নাবলির সংক্ষিপ্ত উত্তর

প্রশ্ন ১: বিজ্ঞানের প্রমানিত সত্য (Facts) কি কখনো বদলে যায়?

উত্তর: না, সরাসরি প্রত্যক্ষ ও পরীক্ষিত সত্য (যেমন: পৃথিবীর সূর্যপ্রদক্ষিণ বা পানির বাষ্পীভবন) কখনো বদলায় না

প্রশ্ন ২: বিজ্ঞানে আসলে ঠিক কোন জিনিসটা পরিবর্তিত হয়?

বিজ্ঞানে আসলে ঠিক কোন জিনিসটা পরিবর্তিত হয়?
উত্তর: বিজ্ঞানে বদলায় কোনো ঘটনার ব্যাখ্যার সূক্ষ্মতা (Theories & Models)। বিজ্ঞান পুরোনো সত্যকে বাতিল করে না, বরং তাকে আরও নিখুঁত ও বিস্তৃত করে।

প্রশ্ন ৩: আদিকালের ইসলামি পণ্ডিতরা পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে কী বিশ্বাস করতেন?

উত্তর: গ্রিক বিজ্ঞান ও দর্শন আরবিতে অনূদিত হওয়ার আগে (৮ম-৯ম শতাব্দীর পূর্বে) আদি তাফসিরকারকগণ (যেমন: তাফসিরে তবারি) কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের শাব্দিক অর্থের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বাস করতেন যে পৃথিবী সমতল এবং তা পানির ওপর ভাসমান। পরবর্তীতে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের মুখে ইবনে হাজম বা ইবনে তাইমিয়ার মতো স্কলাররা এসব আয়াতের ব্যাখ্যা বদলে রূপক অর্থ দেওয়া শুরু করেন।

প্রশ্ন ৪: আধুনিক বিজ্ঞানের প্রভাবে কোরআনের ব্যাখ্যায় (Tafsir) কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে?

উত্তর: বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে প্রথাগত অনেক ব্যাথাই পাল্টে গেছে। যেমন:
পৃথিবীর আকৃতি: ‘সমতল বা বিছানো’ অর্থ থেকে সরিয়ে বর্তমানে গোলকীয় ব্যাথা দেওয়া হয়।
বীর্যের উৎস: পূর্বে পিঠ ও বুকের হাড়ের মাঝখান থেকে উৎপন্ন হওয়ার সরাসরি শাব্দিক ব্যাখ্যা দেওয়া হতো, যা এখন আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের কারণে রূপক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
গর্ভস্থ সন্তানের লিঙ্গ: অতীতে বলা হতো সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে লিঙ্গ জানা অলৌকিক, যা আল্ট্রাসনোগ্রাফি আসার পর “সন্তানের চরিত্র বা ভবিষ্যৎ জানার” দিকে রূপান্তর করা হয়েছে।

প্রশ্ন ৫: “ভুলগুলো স্কলারদের, ইসলামের নয়”—এই যুক্তির প্রধান দুর্বলতা কী?

উত্তর: এই যুক্তির প্রধান দুর্বলতা হলো—যদি গত ১৩০০ বছরের সেরা সাহাবি ও আলিমদের ব্যাখ্যাই ভুল হয়ে থাকে, তবে আজকের আধুনিক অ্যাপোলজিস্টদের ব্যাখ্যা যে সঠিক, তার কোনো বস্তুনিষ্ঠ নিশ্চয়তা থাকে না। এতে দাঁড়ায় যে “আসল ইসলাম” আসলে কী, তা বোঝার আর কোনো সর্বজনগ্রাহ্য উপায় থাকে না।

প্রশ্ন ৬: ইসলাম কি সত্যিই অপরিবর্তনশীল ও শাশ্বত?

উত্তর: ইসলাম নিজেকে শাশ্বত ও সর্বকালের জন্য নির্দিষ্ট দাবি করলেও, ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় বিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কার এবং সামাজিক চাপের মুখে এর তাফসির, ফিকহ ও ফতোয়া প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়েছে। একদিকে অপরিবর্তনশীলতার দাবি করা এবং অন্যদিকে বিজ্ঞানের চাপে ফতোয়া বদলানোকে “নমনীয়তা” বলা একটি প্রকাশ্য স্ববিরোধিতা।

Related Posts

স্রষ্টা কি রাগেন বা খুশি হন? মানুষের বৈশিষ্ট্য ও সীমাবদ্ধতা সৃষ্টিকর্তার উপর চাপিয়ে দেয়া কতটা যৌক্তিক?

মানুষ সাধারণত তার নিজের রূপ, অনুভূতি, কল্পনা এবং সীমাবদ্ধতা দিয়েই সবকিছুকে ব্যাখ্যা করতে চায়। এই বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় অ্যানথ্রোপোমরফিজম (Anthropomorphism) বা মানব রূপারোপবাদ। সহজ ভাষায়, মানবীয় আবেগ, আকৃতি বা চরিত্রকে কোনো অ-মানবীয় বস্তু বা পরম সত্তার ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াই হলো অ্যানথ্রোপোমরফিজম। কার্টুনে পশুপাখির কথা বলা যেমন অ্যানথ্রোপোমরফিজম, ঠিক তেমনি ধর্মীয় সৃষ্টিতত্ত্ব ও ঈশ্বর ভাবনায় মানবীয় গুণাবলী আরোপ করা এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ।…

Read more

মহাবিশ্বের উৎপত্তি: পরম কারণ নাকি প্রাকৃতিক নিয়ম?

যখনই প্রাণের উদ্ভব কীভাবে কোনো অলৌকিক ঈশ্বরের সাহায্য ছাড়াই রাসায়নিক নিয়মে ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করা হয়, তখন ধার্মিকদের তোলা পরবর্তী এবং সর্বশেষ প্রচলিত প্রশ্নটি হয়: “তাহলে এই বিশাল মহাবিশ্ব কোথা থেকে এলো? শূন্য থেকে কি কোনো কিছু এমনি এমনি সৃষ্টি হতে পারে? কোনো না কোনো সৃষ্টিকর্তা বা প্রথম কারণ নিশ্চয়ই থাকতে হবে।” ধার্মিকদের এই আর্গুমেন্টটি দর্শনের ভাষায় ‘ক্যাল্যাম কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্ট’ বা কার্যকারণ তত্ত্ব এবং কন্টিনজেন্সি আর্গুমেন্ট নামে পরিচিত। প্রাচীন…

Read more

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Latest

স্রষ্টা কি রাগেন বা খুশি হন? মানুষের বৈশিষ্ট্য ও সীমাবদ্ধতা সৃষ্টিকর্তার উপর চাপিয়ে দেয়া কতটা যৌক্তিক?

স্রষ্টা কি রাগেন বা খুশি হন? মানুষের বৈশিষ্ট্য ও সীমাবদ্ধতা সৃষ্টিকর্তার উপর চাপিয়ে দেয়া কতটা যৌক্তিক?

মহাবিশ্বের উৎপত্তি: পরম কারণ নাকি প্রাকৃতিক নিয়ম?

মহাবিশ্বের উৎপত্তি: পরম কারণ নাকি প্রাকৃতিক নিয়ম?

প্রাণের উদ্ভব: ঈশ্বর নাকি প্রাকৃতিক রাসায়নিক বিক্রিয়া?

​আল্লাহ কেন শিশুদের কষ্ট দেন: ধর্মীয় গোঁজামিলের যৌক্তিক খণ্ডন

​আল্লাহ কেন শিশুদের কষ্ট দেন: ধর্মীয় গোঁজামিলের যৌক্তিক খণ্ডন

নবী মুহাম্মদের গাছ বিদ্বেষ: অলৌকিক কাহিনীর অন্তরালে কুসংস্কার ও পরিবেশবিরোধী চেতনা

নবী মুহাম্মদের গাছ বিদ্বেষ: অলৌকিক কাহিনীর অন্তরালে কুসংস্কার ও পরিবেশবিরোধী চেতনা

ইসলামে নারীরা কি আসলেই পুরুষের চেয়ে বেশি সম্পত্তি পায়? ৫টি ভুল ধারণা ও খণ্ডন

ইসলামে নারীরা কি আসলেই পুরুষের চেয়ে বেশি সম্পত্তি পায়? ৫টি ভুল ধারণা ও খণ্ডন