আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় জাকির নায়েকের মতো কিছু দাঈ, যারা ইসলামিক স্কলারও নন, তাদের মুখে একটি দাবি খুব শুনতে পাওয়া যায়। তারা বুক ফুলিয়ে দাবি করেন—আধুনিক বিজ্ঞান মাত্র উনিশ শতকে এসে ফিঙ্গার প্রিন্ট আবিষ্কার করেছে। অথচ কুরআন নাকি আজ থেকে ১৪০০ বছর আগেই সূরা কিয়ামাহর ৪ নম্বর আয়াতে এই ফিঙ্গারপ্রিন্টের অলৌকিক বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব দিয়ে রেখেছে!
কিন্তু আমরা যখনই ইতিহাস, ভাষাবিজ্ঞান এবং প্রাচীন বা ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তাফসির গ্রন্থগুলোর দিকে আলোকপাত করি , তখনই দেখতে পাই এই দাবিটি কতটা সস্তা, ভুয়া এবং জোরপূর্বক মেলানো একটি মিথ্যাচার। এটি ঠিক সেই বিখ্যাত ‘দাহাহা’ (Dahaha) শব্দ টেনে পৃথিবীকে উটপাখির ডিম বানানোর মতো এক চরম দেউলিয়া চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
আয়াতে মূলত কী বলা হয়েছে? শব্দ ও প্রেক্ষাপটের ব্যবচ্ছেদ
প্রথমে আমরা বিতর্কিত আয়াতটি এবং এর শব্দার্থ দেখে নিই।
সূরা ক্বিয়ামাহর ৩ ও ৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:
“মানুষ কি মনে করে যে আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করতে পারব না? অবশ্যই আমি তার আঙুলের ডগাগুলো (Bananahu) পর্যন্ত সঠিকভাবে বিন্যস্ত করতে সক্ষম।”
এখানে মূল শব্দ জোড়া হলো ‘বানানাহু’ (بَنَانَهُ)। আরবী অভিধান এবং ক্লাসিক্যাল আরবী ব্যাকরণ অনুযায়ী ‘বানানা’ শব্দের অর্থ হলো—আঙুল, আঙুলের ডগা বা করতল। এই শব্দটির কোথাও ‘ছাপ’, ‘রেখা’ বা ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ (بصمة – বাসমাহ)-এর দূরতম কোনো অর্থ বা অস্তিত্ব নেই।
তাহলে এর মূল প্রেক্ষাপট বা শানে নুযুল কী ছিল?
মক্কার কুরাইশরা যখন পুনরুত্থান বা মৃত্যুর পর আবার জীবিত হওয়ার ধারণাকে উপহাস করত এবং বলত—মানুষ মরে পচে-গলে মাটিতে মিশে যাওয়ার পর ঈশ্বর কীভাবে তাদের আবার জোড়া দেবেন? তার জবাবে এই আয়াত নাজিল হয়। সেখানে বলা হচ্ছে, ঈশ্বর কেবল মানুষের বড় বড় হাড়গোড়ই জোড়া দেবেন না, বরং মানুষের শরীরের সবচেয়ে ক্ষুদ্র, সূক্ষ্ম এবং প্রান্তিক অংশ—যা হলো ‘আঙুলের ডগা’—সেটিকেও নিখুঁতভাবে আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।
তৎকালীন আরবে তীর-ধনুক চালানো, তরবারি ধরা বা যেকোনো সূক্ষ্ম কাজের জন্য আঙুলের ডগার নিখুঁত গঠন ছিল সবচেয়ে জরুরি। তাই পুনরুত্থানের পরম ক্ষমতা বোঝাতে অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি উপমা হিসেবে ‘আঙুলের ডগা’র কথা বলা হয়েছে। এর সাথে আধুনিক ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের ফরেনসিক ফিঙ্গারপ্রিন্টের কোনো সম্পর্কই ছিল না।
প্রাচীন প্রসিদ্ধ তাফসীরকারকগণ কী বলে গেছেন?
আজকের অ্যাপোলজিস্টরা বিজ্ঞান মেলাতে গিয়ে যে দাবি করছেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগের সাহাবী, তাবেঈন বা তাবে-তাবেঈনদের কেউ কি এমন কিছু বুঝেছিলেন? ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং ক্লাসিক্যাল তাফসীরগুলো (যেমন: তাফসীরে ইবনে আব্বাস, তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে কুরতুবী কিংবা তাফসীরে ইবনে কাছীর) খুললেই এই জালিয়াতি ধরা পড়ে যায়।
তাফসীরে তাবারী ও ইবনে আব্বাস: প্রাথমিক যুগের তাফসীরকারকগণ স্পষ্ট লিখেছেন যে, এই আয়াতের অর্থ হলো আল্লাহ হাশরের মাঠে মানুষের হাত ও পায়ের আঙুলগুলোকে এমন নিখুঁতভাবে জোড়া দেবেন যেন তারা আগের মতোই সোজা হয়ে হাঁটতে পারে বা জিনিসপত্র ধরতে পারে। অনেকে আবার লিখেছেন, আল্লাহ চাইলে সব আঙুলকে ছাগল বা উটের খুরের মতো সমান করে দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি মানুষের সুবিধার জন্য আঙুলের ডগাগুলোকে আলাদা ও সূক্ষ্ম করে বানিয়েছেন।
তাফসীরে ইবনে কাছীর: ইমাম ইবনে কাছীর লিখেছেন, আল্লাহ চাইলে দুনিয়াতে মানুষের আঙুল যেভাবে ছিল, ঠিক সেই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশগুলোকেও হুবহু আগের আকারে ফিরিয়ে এনে জোড়া দিতে পারেন।
অর্থাৎ, বিগত তেরোশ বছর ধরে কোনো মুসলিম স্কলার, মুফাসসির বা ভাষাবিদ এই আয়াতে ‘আঙুলের ছাপের অনন্যতা’র কোনো গন্ধও পাননি। উনিশ শতকে যখন বিজ্ঞানীরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট আবিষ্কার করলেন, তখন আধুনিক অ্যাপোলজিস্টরা তড়িঘড়ি করে এই আয়াতের ওপর ‘বিজ্ঞান’ লেপ্টে দিয়ে এটিকে একটি অলৌকিক দাবি হিসেবে বাজারজাত করা শুরু করলেন।
অথচ, মানুষ এটি জানত কুরআন নাজিলের হাজার বছর আগেই!
জাকির নায়েকের মতো অ্যাপোলজিস্টদের দ্বিতীয় মিথ্যাচারটি হলো—তারা দাবি করেন আধুনিক বিজ্ঞানের আগে মানুষ নাকি জানতই না যে আঙুলের ডগার রেখা বা ছাপ মানুষের স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে। তারা শুধু ফিঙ্গারপ্রিন্টের বেলাই নয়, বরং আরো বিভিন্ন তথ্যের ক্ষেত্রে আন্দাজে এই দাবিটি করে থাকে যে ১৪০০ বছর পূর্বে কেউ জানতো না। অথচ ইতিহাস বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। কুরআন নাজিল হওয়ার ১,৫০০ থেকে ২,০০০ বছর আগে থেকেই পৃথিবীর বড় বড় প্রাচীন সভ্যতার মানুষ আঙুলের ছাপের গুরুত্ব ও এর অনন্যতা খুব ভালোভাবেই জানত এবং আইনি কাজে তা ব্যবহার করত।
১. প্রাচীন ব্যাবিলন (খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ): আজ থেকে প্রায় ৩৮০০ বছর আগে প্রাচীন মেসোপটেমিয়া ও ব্যাবিলনিয়ায় যেকোনো আইনি চুক্তি, দলিল বা কেনাবেচার নথিতে জালিয়াতি রুখতে নরম মাটির ট্যাবলেটে (Clay Tablets) চুক্তিকারীর আঙুলের ছাপ নেওয়া হতো। তারা জানত যে একজনের আঙুলের রেখার সাথে অন্যজনের রেখা মিলবে না।
২. প্রাচীন চীন (খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দ): চীনের ‘কিন রাজবংশ’ এবং ‘হান রাজবংশের’ আমলে অপরাধী শনাক্তকরণে আঙুলের ছাপের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহার ছিল। চুরির মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে চোরের হাতের বা আঙুলের ছাপ মাটির সিলের সাথে মিলিয়ে দেখা হতো। এছাড়াও সরকারি নথিপত্র এবং জমিজমার দলিলে টিপসই বা বুড়ো আঙুলের ছাপ নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল।
৩. প্রাচীন ভারতবর্ষ: ভারতীয় উপমহাদেশেও প্রাচীনকাল থেকেই রাজকীয় ফরমান বা সাধারণ মানুষের বিভিন্ন চুক্তিতে স্বাক্ষরজ্ঞানহীনদের ক্ষেত্রে হাতের তালু কিংবা আঙুলের ছাপ ব্যবহার করার দীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল। মানুষ খুব ভালো করেই জানত যে, এই শারীরিক রেখাগুলো ব্যক্তির নিজস্ব ও অপরিবর্তনশীল পরিচয়।
মূলকথা:
কুরআনের সাধারণ শব্দ বা আয়াতকে টেনেহিঁচড়ে আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে মেলানোর এই সস্তা প্রবণতা নতুন কিছু নয়। জাকির নায়েকের মতো ইসলামিক অ্যাপোলজিস্টরা সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের মূল অর্থ লুকিয়ে এভাবেই প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করে থাকেন। সূরা কিয়ামাহর ৪ নম্বর আয়াতে ব্যবহৃত ‘বানানাহু’ শব্দটির সাধারণ অর্থ নিছকই ‘আঙুলের ডগা’। একে জোর করে ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ বলে চালিয়ে দেওয়া আর ‘দাহাহা’ শব্দটিকে বিকৃত করে পৃথিবীকে উটপাখির ডিম বানানোর চেষ্টা করা— একই গোত্রের দেউলিয়া কসরত।
তাদের সবচেয়ে বড় কৌশল হলো সাধারণ মানুষের অজ্ঞতাকে পুঁজি করা। তারা আন্দাজে এবং চরম আত্মবিশ্বাসের সাথে বলে দেয়— “১৪০০ বছর আগে এটা কে জানতো? কুরআনের পূর্বে তো পৃথিবীর কেউ এসব জানতো না!” অথচ তারা কখনোই ইতিহাসের পাতা উল্টে জানার বা যাচাই করার বিন্দুমাত্র চেষ্টাও করে না যে, কুরআনের বহু আগেই প্রাচীন সভ্যতার মানুষ এসব জানত কিনা। ইতিহাস এবং ভাষাবিজ্ঞান—উভয় কষ্টিপাথরেই যাচাই করলে দেখা যায়, বিজ্ঞানের মোড়কে মোড়ানো তাদের এই দাবিগুলো নিছকই ভুয়ো, অজ্ঞতাপ্রসূত এবং অন্তঃসারশূন্য প্রোপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিস্তারিত রেফারেন্স :
১. ক্লাসিক্যাল তাফসীর গ্রন্থের তথ্যসূত্র
(আয়াতের প্রকৃত প্রেক্ষাপট)
ইসলামের প্রাথমিক যুগের সাহাবী, তাবেঈন ও ক্লাসিক্যাল মুফাসসিরদের মতে, এই আয়াতে ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ নয়, বরং কেয়ামতের দিন মানুষের শরীরের সবচেয়ে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র অংশ নিখুঁতভাবে জোড়া দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তাফসীরে তাবারী (ইমাম ইবনে জারির আত-তাবারী, মৃত্যু ৩১০ হিজরী):
উদ্ধৃতি ও অর্থ: সূরা কিয়ামাহর ৪ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) ও কাতাদাহ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, এর অর্থ হলো—আল্লাহ চাইলে মানুষের আঙুলগুলোকে উট বা গরুর খুরের মতো সমান ও জোড়া বানিয়ে দিতে পারতেন, যার ফলে মানুষ কোনো কিছু হাত দিয়ে ধরতে পারত না। কিন্তু আল্লাহ দয়াবশত আঙুলের ডগাগুলোকে আলাদা ও সূক্ষ্ম করে বিন্যস্ত করেছেন। (তাফসীরে তাবারী, খণ্ড ২৪, সূরা আল-কিয়ামাহর ব্যাখ্যা)।
তাফসীরে ইবনে কাছীর (ইমাম ইবনে কাছীর, মৃত্যু ৭৭৪ হিজরী):
উদ্ধৃতি ও অর্থ: ইমাম ইবনে কাছীর লিখেছেন, “আল্লাহ কেবল মানুষের হাড়গুলোকেই একত্রিত করবেন না, বরং তিনি চাইলে মানুষের আঙুলের ডগা বা নখ পর্যন্ত—যা মানুষের শরীরের সবচেয়ে প্রান্তিক ও ছোট অংশ—তাকেও হুবহু আগের আকারে নিখুঁতভাবে জোড়া দিতে সক্ষম।” এখানে আল্লাহর পুনরুত্থানের ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ বোঝানো হয়েছে। (তাফসীরে ইবনে কাছীর, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ২৭৫)।
তাফসীরে কুরতুবী (ইমাম আল-কুরতুবী, মৃত্যু ৬৭১ হিজরী):
উদ্ধৃতি ও অর্থ: তিনি আল-হাসান এবং শাবী (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন, আরবের কাফেররা মনে করত মৃত্যুর পর ছোট ছোট আঙুলের হাড়গুলো আর জোড়া লাগানো সম্ভব নয়। আল্লাহ চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছেন, তিনি বড় হাড় তো বটেই, হাতের আঙুলের একদম সূক্ষ্ম ডগাগুলোকেও (বাত্তানিহা ওয়া তাসউয়িয়াতিহা) আগের মতো মসৃণ ও নিখুঁত করে দিতে পারেন। (তাফসীরে কুরতুবী, খণ্ড ১৯, পৃষ্ঠা ৯০)।
২. ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্যসূত্র (কুরআন পূর্ববর্তী যুগে ফিঙ্গারপ্রিন্টের ব্যবহার):
কুরআন নাজিল হওয়ার হাজার বছর আগে থেকেই যে মানুষ আঙুলের ছাপকে অনন্য পরিচয় হিসেবে জানত এবং আইনি কাজে ব্যবহার করত, তার সুনির্দিষ্ট একাডেমিক রেফারেন্স:
প্রাচীন ব্যাবিলন ও মেসোপটেমিয়া (খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ):
রেফারেন্স:The History of Fingerprints* — C. Rosen (2006) / British Museum Cuneiform Clay Tablets Collection.
বিবরণ: প্রাচীন ব্যাবিলনে মাটির তৈরি আইনি ও ব্যবসায়িক দলিলে জاليةতি রুখতে চুক্তিকারীর আঙুলের ছাপ (Fingerprints on Clay Tablets) নেওয়া হতো। লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে এই ধরনের বেশ কিছু প্রাচীন কিউনিফর্ম ট্যাবলেট সংরক্ষিত আছে।
প্রাচীন চীন (খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দ – কিন ও হান রাজবংশ):
রেফারেন্স: Advances in Fingerprint Technology (2nd Edition) — Henry C. Lee and R.E. Gaensslen (2001), Page 1-3.
বিবরণ: এই বইয়ের ঐতিহাসিক অধ্যায়ে বিস্তারিত প্রমাণসহ দেখানো হয়েছে যে, চীনের কিন (Qin) এবং হান (Han) রাজবংশের আমলে চুরির মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে অপরাধীর হাতের বা আঙুলের ছাপ মাটির সিলের সাথে মিলিয়ে দেখা হতো (Forensic identification)। এছাড়াও আইনি ও সরকারি নথিপত্রে টিপসইয়ের ব্যবহার বাধ্যতামূলক ছিল।
প্রাচীন সভ্যতায় আঙুলের রেখার ফরেনসিক ইতিহাস:
রেফারেন্স: Friction Ridge Skin: Comparison and Identification of Fingerprints* — James F. Cowger (1992), Charles C Thomas Publisher.
বিবরণ: এই বইটিতে ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণসহ আলোচনা করা হয়েছে যে, আধুনিক ফরেনসিক সায়েন্সের বহু পূর্বেই এশীয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন মানুষেরা হাতের রেখা এবং আঙুলের ছাপের অপরিবর্তনশীল অনন্যতা সম্পর্কে জানত এবং তা ব্যক্তিগত সিলমোহর হিসেবে ব্যবহার করত।
পারস্যের বিশ্বকোষে আঙুলের ছাপের অনন্যতার স্বীকৃতি (১২৪৭ খ্রিষ্টাব্দ):
রেফারেন্স:Jami’ al-tawarikh (The Universal History) — Rashid-al-Din Hamadani.
বিবরণ: যদিও এটি ইসলামের পরবর্তী যুগের, তবে আধুনিক ইউরোপীয় বিজ্ঞানের বহু আগে এই পারসিক বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও চিকিৎসক স্পষ্ট লিখেছিলেন যে—”অভিজ্ঞতা ও পরীক্ষা বলে যে, পৃথিবীতে এমন দুজন মানুষ পাওয়া যাবে না যাদের আঙুলের রেখার বিন্যাস (Finger wrinkles) হুবহু এক হবে।”





