মৃত্যুর পর সৃষ্টিকর্তা সত্য হলে ধার্মিকরা বেঁচে যাবে আর নাস্তিকরা বিপদে পড়বে?
অনেক সময় ধর্মপ্রচারক বা সাধারণ ধার্মিকরা ধর্মীয় বিতর্কে কোণঠাসা হয়ে সর্বশেষ অস্ত্র হিসেবে মুক্তচিন্তক ও নাস্তিকদের প্রতি একটি অতিপরিচিত প্রশ্ন ছুড়ে দেন: “ভাই, মৃত্যুর পর যদি দেখা যায় জান্নাত-জাহান্নাম বা সৃষ্টিকর্তা আসলেই নেই, তাহলে তো আপনাদের কোনো লাভ হলো না, আমাদেরও কোনো ক্ষতি হলো না। কিন্তু মৃত্যুর পর সৃষ্টিকর্তা সত্য হলে এবং পরকাল বলতে যদি সত্যি কিছু থেকে থাকে, তখন আপনাদের কী হবে? আমরা তো অন্তত বেঁচে যাব!” দর্শনের ভাষায় এই…
Read moreইসলামের কোন বিধান বা নবীর কর্মকাণ্ডকে কি যুগ-প্রেক্ষাপটের দোহাই দিয়ে জাস্টিফাই করা যায়?
ইসলামী আকীদা ও মূলধারার বিশ্বাস অনুযায়ী, কুরআন ও সহীহ হাদিসে বর্ণিত প্রতিটি আইনি বিধান, নবী মুহাম্মদের সুন্নাহ কোনো বিশেষ ভৌগোলিক সীমানা বা সময়ের ফ্রেমে বন্দি নয়। ইসলাম নিজেকে উপস্থাপন করে কেয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য একমাত্র শাশ্বত, চূড়ান্ত, পরম সত্য ও অপরিবর্তনীয় ঐশ্বরিক জীবনবিধান হিসেবে। কিন্তু আধুনিক যুগে এসে যখনই ইসলামের কোনো অমানবিক আইন, যুদ্ধবন্দিনী ভোগ, চরমপন্থী সামাজিক বিধি, নবী ও সাহাবীদের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কিংবা অপবৈজ্ঞানিক নির্দেশ নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ…
Read moreসূরা তাওবার মুশরিক হত্যার আয়াত কি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছিলো?
সাধারণ মুসলিম কিংবা আধুনিক ইসলামিক অ্যাপোলজিস্টদের কাছে যখনই সূরা তাওবার ৫ নম্বর আয়াত—যা ইতিহাসে “আয়াতুস সাইফ” বা “তলোয়ারের আয়াত” নামে পরিচিত—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তখনই তারা একটি তৈরি করা ও মুখস্থ বুলি আউড়ান। তারা সাফাই গেয়ে দাবি করেন, “এটি তো যুদ্ধের ময়দানে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নাযিল হয়েছিল! যুদ্ধের ময়দানে শত্রু তো আর ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে না, সেখানে তো শত্রুকে হত্যা করার নির্দেশই দেওয়া হবে!” প্রথম দর্শনে এই যুক্তি…
Read moreপরীক্ষার নামে গোঁজামিল
স্কুলের প্রধান শিক্ষক পরীক্ষার আগে ছাত্রদের বললেন, “দেখো, এটা পরীক্ষার হল। এখানে তোমাদের স্বাধীনভাবে উত্তর লিখতে হবে। কেউ ভুল লিখলে আমি খাতা কেড়ে নেব না, কাউকে জোর করে সঠিক উত্তরও বলে দেব না। কারণ এতে পরীক্ষার উদ্দেশ্য নষ্ট হয়ে যাবে।” ছাত্ররা মাথা নাড়ল। পরীক্ষা শুরু হলো। হঠাৎ এক ছাত্র উত্তরপত্রে শিক্ষকের নামের বানান ভুল লিখল। প্রধান শিক্ষক রেগে আগুন হয়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে পুরো সারির দশজন ছাত্রের খাতা ছিঁড়ে…
Read moreমহাবিশ্ব কি আসলেই সুশৃঙ্খলভাবে চলছে?
আমরা প্রায়ই রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবি, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কত না শান্ত ও সুশৃঙ্খল! গ্রহগুলো নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরছে, ঋতু বদলাচ্ছে, আর সূর্য প্রতিদিন নিয়ম করে পূর্ব দিকে উঠছে। এই আপাত দৃশ্যমান নিয়ম শৃঙ্খলা দেখে অনেকে মনে করেন, পুরো মহাবিশ্ব বুঝি একটি সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত ঘড়ির কাঁটার মতো চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কি আসলেই সুশৃঙ্খল? নাকি আমাদের না-জানার কারণে একে সুশৃঙ্খল বলে মনে হয়? ঠিক যেন কুয়োর ব্যাঙের মতো…
Read moreকুরআনে মৌমাছির অলৌকিকতা: বৈজ্ঞানিক সত্য নাকি সংখ্যাতাত্ত্বিক গোঁজামিল?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন ইসলামিক অ্যাপোলজিস্টদের (ধর্মীয় ব্যাখ্যাকারী) আলোচনায় প্রায়ই একটি কথা শোনা যায়— পবিত্র কুরআনে নাকি হাজার বছর আগেই মৌমাছির এমন সব বৈজ্ঞানিক তথ্য দেওয়া হয়েছে, যা আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কারের সাথে হুবহু মিলে যায়।মৌমাছির ক্রোমোজোম সংখ্যা, সূরার নাম্বার, কিংবা পুরুষ ও স্ত্রী মৌমাছির ভূমিকা নিয়ে যেসব অলৌকিকতার দাবি তোলা হয়, আপাতদৃষ্টিতে সেগুলো চমকপ্রদ মনে হলেও বিজ্ঞান এবং ইতিহাসের কষ্টিপাথরে যাচাই করলে এগুলো গোঁজামিল ছাড়া আর কিছুই নয়।…
Read moreমানুষ কি আসলেই নিখুঁত সৃষ্টি?
ধর্মীয় বা ঐতিহ্যগত বয়ানে প্রায়ই দাবি করা হয় যে মানুষ নাকি বিশ্বজগতের সর্বশ্রেষ্ঠ ও নিখুঁততম সৃষ্টি। আমাদের চেতনা, বুদ্ধিমত্তা ও জটিল শারীরিক গঠন দেখে আপাতদৃষ্টিতে মনে হতেই পারে যে মানুষের শরীর বুঝি কোনো মহা-প্রকৌশলীর নিখুঁত নকশার ফসল। কিন্তু সত্যি কি তাই? বিজ্ঞান ও মানব শারীরবিদ্যার (Human Anatomy) আলোয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, মানুষ মোটেই কোনো নিখুঁত নকশা নয়; বরং কোটি কোটি বছরের বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া অসংখ্য ভুল,…
Read more“দুই সমুদ্রের পানি মিশে না”: প্রাচীন ভুল ধারণা, অলৌকিকত্বের দাবি এবং কুরআনের স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ভুল
ইসলামি অপোলজেটিক্স বা ধর্মপ্রচারকদের দ্বারা বহুল প্রচারিত একটি অলৌকিক দাবি হলো—কোরআনে নাকি এমন বৈজ্ঞানিক তথ্য বলা হয়েছে যা ১৪০০ বছর আগে জানা অসম্ভব ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় দাবিটি হলো, “দুই সমুদ্রের পানি মিশে না বা মিষ্টি ও লোনা পানি একে অপরের সাথে মিশে যায় না।” ইসলামকে সত্য প্রমাণের ঢাল হিসেবে এই দাবিটি যুগ যুগ ধরে ব্যবহার করা হলেও, ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—এই একটি…
Read moreনিজধর্ম যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ধার্মিকদের পক্ষপাতিত্ব
ধরুন, আপনার জীবনে প্রথম আপনি স্কুলে ক্লাসে গেলেন। সবাই অপরিচিত। ঠিক তখনই একজন ছাত্র আপনাকে এসে বললো যে এই স্কুলে এবং ক্লাসে শুধু আমিই ভাল, বাকি সবাই খারাপ। আরো বললো, আমি ছাড়া এই ক্লাসে আর কারো সাথে তুমি মিশতে পারবে না এবং মিশতে দিচ্ছে না। সবসময় অন্যের বদনাম করছে এবং নিজের সুনাম করছে। পাশাপাশি তার অন্ধভক্ত-বন্ধু এবং আত্মীয়স্বজনদের সাথে আপনাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে, যারা একই কথা আপনাকে শুনিয়ে থাকে।…
Read moreকুরআনে ফেরাউনের মমি সম্পর্কে প্রচলিত দাবি বনাম ঐতিহাসিক বাস্তবতা
ওয়াজ-মাহফিল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুল আলোচিত একটি জনপ্রিয় মিরাকল হলো কুরআনে ফেরাউনের মমি অলৌকিকভাবে সুরক্ষিত থাকার দাবি। বলা হয়ে থাকে, সাগরে ডুবে মারা যাওয়া এই ফারাওয়ের লাশ নাকি বিজ্ঞানের যুগে ঐতিহাসিক অলৌকিকতার এক জ্বলন্ত প্রমাণ। কিন্তু পরম ধার্মিকতার আবডালে লুকিয়ে থাকা এই অলৌকিকতার দাবিটি কি আদৌ কোনো ঐতিহাসিক বা বৈজ্ঞানিক সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, নাকি এটি স্রেফ অন্ধ বিশ্বাস আর ভুয়া তথ্যের বিভ্রান্তি? আধুনিক মিসরবিদ্যা (Egyptology), পিয়ার-রিভিউড বিজ্ঞান এবং প্রাচীন হায়ারোগ্লিফিক…
Read more












