স্কুলের প্রধান শিক্ষক পরীক্ষার আগে ছাত্রদের বললেন,
“দেখো, এটা পরীক্ষার হল। এখানে তোমাদের স্বাধীনভাবে উত্তর লিখতে হবে। কেউ ভুল লিখলে আমি খাতা কেড়ে নেব না, কাউকে জোর করে সঠিক উত্তরও বলে দেব না। কারণ এতে পরীক্ষার উদ্দেশ্য নষ্ট হয়ে যাবে।”
ছাত্ররা মাথা নাড়ল।
পরীক্ষা শুরু হলো।
হঠাৎ এক ছাত্র উত্তরপত্রে শিক্ষকের নামের বানান ভুল লিখল।
প্রধান শিক্ষক রেগে আগুন হয়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে পুরো সারির দশজন ছাত্রের খাতা ছিঁড়ে ফেললেন। তারপর কয়েকজনকে হল থেকে বের করে দিলেন।
অন্য ছাত্ররা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
“স্যার, আপনি না বলেছিলেন এটা পরীক্ষার হল? এখানে তো স্বাধীনভাবে উত্তর লেখার কথা!”
প্রধান শিক্ষক বললেন,
“হ্যাঁ, সেটাই তো।”
কিছুক্ষণ পর দেখা গেল, হলের এক কোণায় একজন বড় ছাত্র দুর্বল এক ছাত্রকে মারধর করছে। ছোট ছেলেটা কাঁদছে, সাহায্যের জন্য চিৎকার করছে।
প্রধান শিক্ষক সব দেখছেন।
একজন ছাত্র দৌড়ে এসে বলল,
“স্যার, আপনি কিছু বলছেন না কেন?”
প্রধান শিক্ষক শান্ত গলায় উত্তর দিলেন,
“এটা পরীক্ষার হল। এখানে সবার স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি আছে। আমি হস্তক্ষেপ করলে পরীক্ষা নষ্ট হয়ে যাবে।”
ছাত্রটি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
“স্যার, বানান ভুল হলে আপনি দশজনের খাতা ছিঁড়ে ফেলেন, আর একজন ছাত্র আরেকজনকে মারলে আপনি বলেন এটা পরীক্ষার অংশ?”
প্রধান শিক্ষক গম্ভীর মুখে বললেন,
“তুমি এসব গভীর বিষয় বুঝবে না।”
ছাত্রটি আর কিছু বলল না।
হঠাৎ, তার মনে পড়ে গেল মক্তবের হুজুরের কথা, যিনি বলেছিলেন, “আল্লাহ দুনিয়াতে শিশুধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধেও হস্তক্ষেপ করেন না, কারণ দুনিয়া হলো পরীক্ষার হল। অন্যদিকে, ভূমিকম্প হলে তিনি বলতেন এটার আল্লাহর গজব, বেপর্দা আর অশ্লীলতার কারণে তিনি গজব দিয়ে থাকেন।
অণুগল্প : পরীক্ষার নামে গোঁজামিল






