কুরআনে নবীকে সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি ও ঐতিহাসিক পরিহাস
ইসলামি ধর্মতত্ত্বে দাবি করা হয়, নবী মুহাম্মদের জীবন ছিল সম্পূর্ণ আল্লাহর প্রত্যক্ষ সুরক্ষায় বেষ্টিত। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-মায়েদার ৬৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নবীকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন—”আল্লাহ তোমাকে মানুষের ক্ষতি থেকে রক্ষা করবেন (ওয়াল্লাহু ইয়া’সিমুকা মিনান নাস)”। কিন্তু ইসলামের নিজস্ব ইতিহাস এবং নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থগুলোর পাতা উল্টালে এই দাবির সত্যতা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। আমরা দেখতে পাই, এই স্পষ্ট প্রতিশ্রুতির পরেও নবী মুহাম্মদ মানুষের দ্বারা মারাত্মক শারীরিক ও…
Read moreনবীর ভুল অনুমান ও এক কিশোরের ট্র্যাজেডি: ইবনে সাইয়্যাদের ঘটনা
ইসলামি ধর্মতত্ত্বে দাবি করা হয়, নবী নিজ থেকে কিছু বলতেন না, বরং আল্লাহ তাঁকে যা বলতেন তাই তিনি বলতেন। কিন্তু ইসলামের নিজস্ব নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থগুলোর পাতা উল্টালে ইবনে সাইয়্যাদের ঘটনা এবং তার প্রেক্ষাপট এক বিশাল কাঠগড়ায় এসে দাঁড়ায়। মদিনার কিশোর ইবনে সাইয়্যাদের সাথে নবীর আচরণ এবং তাঁর একটি ভুল ধারণার কারণে সেই ছেলেটির জীবনের নির্মম ট্র্যাজেডি আজ ওহীর সত্যতা এবং নবীর দূরদর্শিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাছাড়া, ইসলাম অনুযায়ী ওহী ছিল সম্পূর্ণ অভ্রান্ত…
Read moreকুরআনে মৌমাছির অলৌকিকতা: বৈজ্ঞানিক সত্য নাকি সংখ্যাতাত্ত্বিক গোঁজামিল?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন ইসলামিক অ্যাপোলজিস্টদের (ধর্মীয় ব্যাখ্যাকারী) আলোচনায় প্রায়ই একটি কথা শোনা যায়— পবিত্র কুরআনে নাকি হাজার বছর আগেই মৌমাছির এমন সব বৈজ্ঞানিক তথ্য দেওয়া হয়েছে, যা আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কারের সাথে হুবহু মিলে যায়।মৌমাছির ক্রোমোজোম সংখ্যা, সূরার নাম্বার, কিংবা পুরুষ ও স্ত্রী মৌমাছির ভূমিকা নিয়ে যেসব অলৌকিকতার দাবি তোলা হয়, আপাতদৃষ্টিতে সেগুলো চমকপ্রদ মনে হলেও বিজ্ঞান এবং ইতিহাসের কষ্টিপাথরে যাচাই করলে এগুলো গোঁজামিল ছাড়া আর কিছুই নয়।…
Read moreমারিয়া কিবতিয়ার ব্যভিচারের গুঞ্জনে বিচারবহির্ভূত রায় কি নবীর দ্বিচারিতা প্রমাণ করে?
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, নবী মুহাম্মদ মানুষের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ এবং তাঁর সকল সিদ্ধান্ত আল্লাহর নির্দেশনায় পরিচালিত। কিন্তু যদি দেখা যায় যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ক্ষেত্রে তিনি কুরআনে বর্ণিত স্পষ্ট বিচারের বিধান অনুসরণ না করে, আবেগতাড়িত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন এবং তা ভুল প্রমাণিত হয়, তখন সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি যৌক্তিক নয়? আজ আমরা আলোচনা করব ইসলামের ইতিহাসের এমনই এক বহুল বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর ঘটনা— “মারিয়া আল-কিবতিয়া এবং মাবুর…
Read more“দুই সমুদ্রের পানি মিশে না”: প্রাচীন ভুল ধারণা, অলৌকিকত্বের দাবি এবং কুরআনের স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ভুল
ইসলামি অপোলজেটিক্স বা ধর্মপ্রচারকদের দ্বারা বহুল প্রচারিত একটি অলৌকিক দাবি হলো—কোরআনে নাকি এমন বৈজ্ঞানিক তথ্য বলা হয়েছে যা ১৪০০ বছর আগে জানা অসম্ভব ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় দাবিটি হলো, “দুই সমুদ্রের পানি মিশে না বা মিষ্টি ও লোনা পানি একে অপরের সাথে মিশে যায় না।” ইসলামকে সত্য প্রমাণের ঢাল হিসেবে এই দাবিটি যুগ যুগ ধরে ব্যবহার করা হলেও, ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—এই একটি…
Read moreএকটি সামান্য ঘড়ির সৃষ্টিকর্তা থাকলে মানুষ বা প্রকৃতির সৃষ্টিকর্তা থাকবে না কেন: ওয়াচমেকার ফ্যালাসি খণ্ডন
ধর্মীয় আলোচনা বা বিতর্কে ধার্মিকদের সবচেয়ে পছন্দের দাবিগুলোর একটি হলো ঘড়ি বা মোবাইলের উদাহরণ, যা যুক্তিশাস্ত্রে ওয়াচমেকার ফ্যালাসি খণ্ডন আলোচনার একটি অন্যতম বিষয়। তাদের যুক্তিটা এমন—“মরুভূমিতে একটি ঘড়ি বা মোবাইল কুড়িয়ে পেলে আপনি কখনোই ভাববেন না যে এটি বালু আর বাতাসের ঘর্ষণে নিজে নিজে তৈরি হয়েছে। আপনি নিশ্চিত হবেন যে এর একজন সৃষ্টিকর্তা বা কারিগর আছে। তাহলে মানুষের মতো জটিল প্রাণী কিংবা এই বিশ্বজগৎ কীভাবে কোনো সৃষ্টিকর্তা ছাড়া নিজে নিজে তৈরি…
Read moreমা-বাবাকে প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস করলে, আল্লাহকে কেন নয়?
ধর্মীয় আলোচনা বা যুক্তিতর্কে অন্ধবিশ্বাসীরা প্রায়ই একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন—“আপনি কি নিজের চোখে দেখেছেন আপনার মা-বাবার মিলনে আপনার জন্ম হয়েছে? দেখেননি। তবুও কি তাদের মা-বাবা বলে মানেন না? তবে প্রমাণ ছাড়া ঈশ্বর বা আল্লাহকে বিশ্বাস করতে সমস্যা কোথায়?” প্রথম দর্শনে এই যুক্তিটি বেশ বুদ্ধিদীপ্ত ও গোলকধাঁধাঁপূর্ণ মনে হতে পারে। কিন্তু যুক্তির কষ্টিপাথরে বিচার করলে দেখা যায়, এটি একটি চরম পর্যায়ের ভুল উপমার কুযুক্তি বা False Analogy। দৃশ্যমান মা-বাবার অস্তিত্বকে…
Read moreমৃত্যুর পর কি হবে?
জন্মের আগে যেমন ছিল মৃত্যুর পরও তেমনই হবে। জন্মের আগে আমরা কি আমাদের অস্তিত্বকে অনুভব করতে পারতাম? জন্মের আগে আমাদের কি সুখ বা দুঃখের অনুভূতি হত? নিশ্চয়ই না! ঠিক তেমনি মৃত্যুর পরেও আমরা আমাদের অস্তিত্বকে অনুভব করতে পারব না; কোন প্রকার সুখ-দুঃখের অনুভূতি আর থাকবে না। কারণ মানুষের চিন্তাশক্তি এবং অনুভূতির উদ্ভব হয় মস্তিষ্কের ভিতরে থাকা নিউরোন এর অতিমাত্রায় জটিল পারস্পরিক আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে। মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার…
Read more











