যুক্তি দেওয়া কি শয়তানের কাজ? নাকি দাবিটি প্রতারকদের তৈরি এক অন্ধ জাঁতাকল?
আমাদের সমাজে একটি কথা খুব চতুরতার সাথে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে—“বেশি যুক্তি দেওয়া ভালো না, শয়তানের যুক্তির কোনো অভাব নেই।” যখনই কেউ কোনো প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাস, কুসংস্কার বা প্রচলিত নিয়ম নিয়ে একটু গভীরভাবে প্রশ্ন তোলে, তখনই তার মুখে এই বুলি ছুঁড়ে দিয়ে আলোচনা থামিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবলে বুঝতে পারবেন, এই সরল বাক্যটির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিরাট মনস্তাত্ত্বিক চালবাজি। আজ আমরা একটু খতিয়ে দেখব—যুক্তি দেওয়া বা ‘বেশি…
Read moreহারিয়ে যাওয়া ১০০ সহিফা: ধর্মীয় লোকগাথা বনাম ঐতিহাসিক বাস্তবতা
ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষের আবেগের জায়গা হলেও, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও যুক্তি চলে চিরন্তন প্রমাণের ভিত্তিতে। ইসলামে বহুল প্রচলিত একটি দাবি হলো—প্রধান চার কিতাবের আগে আল্লাহ বিভিন্ন যুগে ১০০টি সহিফা বা ছোট কিতাব পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আধুনিক ঐতিহাসিক গবেষণা এবং সাধারণ যুক্তির কষ্টিপাথরে যাচাই করলে এই দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। নিচে এর পক্ষে প্রধান প্রধান যুক্তিগুলো তুলে ধরা হলো: ১. লজিক্যাল বা যৌক্তিক অসারতা: স্রষ্টার নিজের কিতাবের নাম…
Read moreআল্লাহ কেন শিশুদের কষ্ট দেন: ধর্মীয় গোঁজামিলের যৌক্তিক খণ্ডন
যখনই কেউ প্রশ্ন করে, জন্মগতভাবে একটা শিশুকে প্রতিবন্ধী বানিয়ে বা ভয়ানক রোগ দিয়ে আল্লাহ কেন শিশুদের কষ্ট দেন? অবুঝ শিশুদের কষ্ট দিয়ে তিনি কিসের পরীক্ষা নেন? এগুলো কি আসলে দয়ার নমুনা নাকি নির্দয়তার নমুনা? আল্লাহ কি আসলেই পরম দয়ালু? নিজের বিবেককে একবার প্রশ্ন করুন তো! ধরুন, আপনি নিজে যদি আল্লাহ হতেন, তাহলে কি কখনো পরীক্ষার অজুহাতে এরকম অমানবিক কাজ করতে পারতেন? এক্ষেত্রে মুমিনরা বেশ কিছু কুযুক্তি দেয় এবং আমি…
Read moreআলীর দ্বিতীয় বিয়েতে নবীর বাধা: ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নবীর দ্বিচরিতা
ইসলামে বহুবিবাহ একটি অত্যন্ত আলোচিত এবং বিতর্কিত বিষয়। ইসলামি অনুশাসন অনুযায়ী একজন পুরুষ সর্বোচ্চ চারটি বিয়ে করতে পারেন এবং দাবি করা হয়—এটি নারীদের সুরক্ষার জন্য ও পুরুষের অধিকার। কিন্তু বহুবিবাহের এই নিয়ম যখন স্বয়ং নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর নিজের পরিবারের ওপর এসে পড়েছিল, তখন ইসলামের ইতিহাসের পাতা এক অদ্ভুত ও দ্বিমুখী আচরণের সাক্ষী হয়। আজ আমরা আলোচনা করব ইসলামের ইতিহাসের সেই বহুল আলোচিত ঘটনাটি নিয়ে, যেখানে আলীর দ্বিতীয় বিয়ে সিদ্ধান্তকে স্বয়ং নবী…
Read moreনবীজি কি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে কুরআনের আয়াত নাজিল করতেন?
কুরআন – সহীহ হাদিস এবং সিরাত পাঠ করলে এমন বহু ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে স্পষ্ট দেখা যায় যে, যখনই নবী মুহাম্মদ কোনো ব্যক্তিগত সংকট, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, পারিবারিক টানাপোড়েন কিংবা নিজস্ব কামনার মুখোমুখি হতেন—ঠিক তখনই অলৌকিক সমাধান হিসেবে কোরআনের আয়াত নাজিল হতো। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী এগুলোকে ‘ঐশ্বরিক নির্দেশ’ হিসেবে দেখা হলেও, নিরপেক্ষ ও সমালোচনামূলক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে প্রশ্ন জাগে—এগুলো কি আসলেই স্রষ্টার বাণী ছিল, নাকি নিজের সুবিধা ও স্বার্থসিদ্ধির…
Read moreমৃত্যুর পর সৃষ্টিকর্তা সত্য হলে ধার্মিকরা বেঁচে যাবে আর নাস্তিকরা বিপদে পড়বে?
অনেক সময় ধর্মপ্রচারক বা সাধারণ ধার্মিকরা ধর্মীয় বিতর্কে কোণঠাসা হয়ে সর্বশেষ অস্ত্র হিসেবে মুক্তচিন্তক ও নাস্তিকদের প্রতি একটি অতিপরিচিত প্রশ্ন ছুড়ে দেন: “ভাই, মৃত্যুর পর যদি দেখা যায় জান্নাত-জাহান্নাম বা সৃষ্টিকর্তা আসলেই নেই, তাহলে তো আপনাদের কোনো লাভ হলো না, আমাদেরও কোনো ক্ষতি হলো না। কিন্তু মৃত্যুর পর সৃষ্টিকর্তা সত্য হলে এবং পরকাল বলতে যদি সত্যি কিছু থেকে থাকে, তখন আপনাদের কী হবে? আমরা তো অন্তত বেঁচে যাব!” দর্শনের ভাষায় এই…
Read moreইসলামের কোন বিধান বা নবীর কর্মকাণ্ডকে কি যুগ-প্রেক্ষাপটের দোহাই দিয়ে জাস্টিফাই করা যায়?
ইসলামী আকীদা ও মূলধারার বিশ্বাস অনুযায়ী, কুরআন ও সহীহ হাদিসে বর্ণিত প্রতিটি আইনি বিধান, নবী মুহাম্মদের সুন্নাহ কোনো বিশেষ ভৌগোলিক সীমানা বা সময়ের ফ্রেমে বন্দি নয়। ইসলাম নিজেকে উপস্থাপন করে কেয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য একমাত্র শাশ্বত, চূড়ান্ত, পরম সত্য ও অপরিবর্তনীয় ঐশ্বরিক জীবনবিধান হিসেবে। কিন্তু আধুনিক যুগে এসে যখনই ইসলামের কোনো অমানবিক আইন, যুদ্ধবন্দিনী ভোগ, চরমপন্থী সামাজিক বিধি, নবী ও সাহাবীদের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কিংবা অপবৈজ্ঞানিক নির্দেশ নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ…
Read moreনবীকে ইহুদিদের ৩টি প্রশ্ন: নবুয়তের পরীক্ষা ও ফলাফল
ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাসের দিকে তাকালে মক্কার কুরাইশ ও মদিনার ইহুদিদের সাথে নবী মুহাম্মদের নবুয়তের সত্যতা যাচাইয়ের ঘটনাটি অন্যতম আলোচিত বিষয়। মক্কায় যখন তিনি নিজেকে শেষ নবী হিসেবে দাবি করছিলেন, তখন কুরাইশরা নিজেদের কোনো আসমানি কিতাব না থাকায় সিদ্ধান্তের জন্য মদিনার কিতাবধারী ইহুদি আলেমদের (রাব্বি) দ্বারস্থ হয়। ইহুদি আলেমরা তাদের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থ ও ঐতিহ্যের বিচারে এমন ৩টি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন বলে দিয়েছিলেন, যার ওপর নির্ভর করছিল নবীর নবুয়তের দাবির সত্যতা।…
Read moreসূরা তাওবার মুশরিক হত্যার আয়াত কি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছিলো?
সাধারণ মুসলিম কিংবা আধুনিক ইসলামিক অ্যাপোলজিস্টদের কাছে যখনই সূরা তাওবার ৫ নম্বর আয়াত—যা ইতিহাসে “আয়াতুস সাইফ” বা “তলোয়ারের আয়াত” নামে পরিচিত—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তখনই তারা একটি তৈরি করা ও মুখস্থ বুলি আউড়ান। তারা সাফাই গেয়ে দাবি করেন, “এটি তো যুদ্ধের ময়দানে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নাযিল হয়েছিল! যুদ্ধের ময়দানে শত্রু তো আর ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে না, সেখানে তো শত্রুকে হত্যা করার নির্দেশই দেওয়া হবে!” প্রথম দর্শনে এই যুক্তি…
Read moreএপিকিউরাসের বিখ্যাত প্যারাডক্স, যা ধর্মের ভিত নাড়িয়ে দেয়
হাজার বছর ধরে দর্শন আর ধর্মের আকাশে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বড় ঝড় তুলে আসছে, তা হলো—একটি নিষ্পাপ শিশু যখন ক্যানসারের মতো মরণব্যাধিতে তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করে, তখন ঈশ্বর কেন নীরব থাকেন? আজ থেকে প্রায় ২৫০০ বছর পূর্বে গ্রিক দার্শনিক এপিকিউরাস মানুষের এই চিরন্তন হাহাকারকে এমন এক যৌক্তিক ফাঁদে রূপ দিয়েছিলেন, যা আজ পর্যন্ত পৃথিবীর সমস্ত ধর্মতত্ত্বের ভিত নাড়িয়ে দেয়।আজ আমরা এপিকিউরাসের বিখ্যাত প্যারাডক্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো গোজামিলের জবাবসহ। এপিকুরাস…
Read more













